তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রংপুরের কারা কর্তৃপক্ষ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রাষ্ট্রপক্ষকে স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়টি হাইকোর্টকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে রংপুর কারাগার থেকে মইনুল হোসেনকে অন্য কোনো জেলায় স্থানান্তরের করতে হলে যথাযথ নিরাপত্তা দিতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মইনুল হোসেনের স্ত্রীর করা দু’টি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন।
রংপুর আদালত প্রাঙ্গণে মইনুল হোসেনের ওপর হামলার ঘটনায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং নিজ খরচে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে তার স্ত্রীর করা দু’টি রিট আজ শুনানির জন্য উত্থাপন করা হয়।
এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সময়ের জন্য আবেদন করেন। এরপর আদালত শুনানির জন্য রোববার পরবর্তী দিন ধার্য করে আদেশ দেন।
আদালতে মইনুল হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুর রহিম ও মাসুদ রানা। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।
গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’-এ রাজনৈতিক সংবাদের বিশ্লেষণে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির করা এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই।’
ওই ঘটনায় রংপুরে করা মানহানির এক মামলায় গত ২২ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
টকশোতে দেয়া বক্তব্যের ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখন পর্যন্ত মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি মানহানির এবং ২টি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা।
গত ৩ নভেম্বর মইনুল হোসেনকে ঢাকা থেকে রংপুর কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ৪ নভেম্বর এ মামলায় মইনুল হোসেনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর তাকে রংপুর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন রংপুর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
ওইদিন মইনুল হোসেনের আইনজীবী মাসুদ রানা বলেন, ‘রংপুর আদালতে নেয়ার সময় তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর পুলিশের ছত্রছায়ায় সরকারি দলের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আহত করে।’







