দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কুমামোটোর এইওন মলে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়ায় ভেতরে অনেকেই আটকা পড়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরে আঘাত হানে। এ ঘটনায় দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল যা এক ঘণ্টার মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ১০ কিলোমিটার (ছয় মাইল) অগভীর হওয়ায় আবহাওয়া সংস্থা শক্তিশালী আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক করেছে। জাতীয় সম্প্রচারকারী এনএইচকে-র প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, রাস্তা ও সেতুতে ফাটল ধরেছে এবং বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, “আমরা এখনও হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করছি। তবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।”
কুমামোটোর এইওন শপিং সেন্টারের ফুটেজে দেখা গেছে, ভবনটি থেকে ধোঁয়া উঠছে এবং লোকজন গাড়ি পার্কিংয়ের দিকে ছুটছে। মলটির বাইরের দিকের বড় অংশ উড়ে গেছে, যার ফলে ভেতরের স্টিলের বিমগুলো উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
এইওন মল একটি জনপ্রিয় দেশব্যাপী চেইন শপিং মল, জাপানজুড়ে যার প্রায় ১৬০টি কেন্দ্র রয়েছে। এখানে ডিপার্টমেন্ট স্টোর, বুটিক, ফার্মেসি এবং ফুড কোর্ট রয়েছে।
এনএইচকে জানিয়েছে, ভূমিকম্পে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন, এর মধ্যে একটি বৃদ্ধাশ্রমের প্রায় ১০ জন এবং অন্তত ৫০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভূমিকম্পের কারণে জাপানে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
মুখ্য ক্যাবিনেট সচিব মিনোরু কিহারা বলেছেন, জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনী, দমকল বাহিনী এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীসহ জরুরি সেবাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) নিউজজেপি-কে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল) দূরে অবস্থিত সেন্দাই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভূমিকম্পের কারণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা নিরাপত্তা সমস্যা হয়নি এবং এটি সচল রয়েছে। একইসাথে আইএইএ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ, যেখানে বছরে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভূমিকম্প হয়। গত এক দশক আগে কুমামোটোতে একাধিক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। এরমধ্যে ২০১৬ সালের এপ্রিলেও ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। তখন ওই ভুমিকম্পে মোট ২৭৮ জন নিহত হয়েছিলেন বলে এনএইচকে জানিয়েছিল।







