প্রাণের মায়ায় বাংলাদেশে পালিয়ে এসে, খাদ্য-পানির তীব্র সংকটে অনিশ্চিত ভবিষ্যতকে আলিঙ্গন করা এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জন্ম নিয়েছে উমর। ইউনিসেফ বাংলাদেশের করা প্রতিবেদনটির সময় তার জীবনের মাত্র ১৫টি দিন অতিবাহিত হয়েছে। কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরেই তার জন্ম।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নিধনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সময় উমরের মা ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এই অবস্থাতেই কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির পর্যন্ত আসতে ‘শতমাইল’ পথ হাঁটতে হয়েছে তাকে। স্বামী এবং শাশুড়ির সাথে এই শরণার্থী শিবিরে এসেছেন তিনি।
উমরের মা বলেন, তারা আমাদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এই পর্যন্ত আসতে আমাদের পাহাড় ডিঙ্গাতে হয়েছে, জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হাঁটতে হয়েছে। কোথায় যেতে হবে না জেনে আমরা শুধু হেঁটেছি। “আমার আর কখনোই মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই না।”
খাদ্য ও পানির অভাবে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন উমর এবং তার মা। ইউনিসেফ সাপোর্টেড সেন্টারে উমরকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। উমরের মতো অনেক শিশুও এখন একইভাবে ভুগছে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশ জানায়, দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া ৮ লাখ রোহিঙ্গাকে এখন বাংলাদেশ আশ্রয় দিচ্ছে। এদের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।
৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘ একে ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভিডিও প্রতিবেদন:








