চকবাজার ট্র্যাজেডিতে অগ্নিকাণ্ড নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো থেকে। পুরান ঢাকার চকবাজারে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী জানিয়েছেন এক ধরনের তথ্য, ঠিক এর বিপরীত কথা বলেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক লে. কর্নেল এস এম জুলফিকার রহমান।
বৃহস্পতিবার পরিদর্শনে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেছিলেন: পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রাসায়নিক গুদামের কোনো সম্পর্ক নেই, ওই ভবনে কোনো রাসায়নিক গুদামও নেই।
তবে শুক্রবার ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান: ভবনের ভেতরে গ্যাস লাইটার রিফিলের পদার্থ ছিল। এটা নিজেই একটা দাহ্য পদার্থ। এছাড়া আরও অন্যান্য কেমিক্যাল ছিল। প্রত্যেকটা জিনিসই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করেছে। পারফিউমের বোতলে রিফিল করা হতো এখানে। সেই বোতলগুলো ব্লাস্ট হয়ে বোমের মতো কাজ করেছে।
শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা বলেন, অবশ্যই কেমিক্যাল ছিল। যা যা ছিল, সেগুলো এক ধরনের কেমিক্যাল। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করবো না, তিনি এমন বক্তব্য কোন পরিপ্রেক্ষিতে দিয়েছেন তা জানা নেই। ক্যামিকেলের জন্যই আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে বেশি।
চ্যানেল আই অনলাইনের খবরে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে যে ভবনটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই হাজী ওয়াহেদ মঞ্জিলের নিচতলায় ডজনখানেক দোকান, আর দোতলায় পারফিউম ও প্লাস্টিক সামগ্রীর গোডাউন ছিল। আশপাশের বিভিন্ন ভবনেও রাসায়নিক ও দাহ্য সামগ্রীর গুদাম বা দোকান ছিল।
অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনার পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় দেখা গেছে। ছিল দুর্যোগ মোকাবেলায় আন্তরিকতাও। এছাড়া জরুরি অবস্থায় চিকিৎসা সেবাসহ নানা ধরনের সহায়তার খবরও পাওয়া গেছে।
তারপরেও এত মানুষের করুণ মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে কেমিক্যাল সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে এই ধরনের কথা চললে জনমনে প্রশ্ন ওঠবে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে। এমনটা কখনোই কাম্য নয়।
আমরা চাই পুরান ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের কারখানা এবং কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেয়া হোক। আর এত মানুষের মৃত্যুর মিছিল যেনো ভবিষ্যতে আর না ঘটে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেও বলেও আমরা আশা করি। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।







