বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই ভ্যাট দেবে বলে সরকারের ঘোষণার পর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরাই ভ্যাট প্রদানের ঘোষণা দিলেও শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা কমিয়ে আনার ঘোষণা আসছে কারও কারও কাছ থেকে। কেউ কেউ এখনও ভুগছে সিদ্ধান্তহীনতায়।
আগামী তিন বছর কোনো টিউশন ফি বাড়ানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ফরাসউদ্দিন নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া নর্থ সাউথ এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এআইইউবি নিজেরা ভ্যাট প্রদানের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় শিক্ষার্থীরা।
তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলে জানালেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শিক্ষার্থী জুয়েল রানা। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইদ কামরুলের আশ্বাসের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলেও নতুন সেমিস্টারের রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ছে।
ওই ঘোষণার পরও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া মানি রিসিপ্টে দেখা যায়, টিউশন ফির উপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি পার্কিং এবং লাইব্রেরি-ল্যাব সুবিধার ওপরও ভ্যাট কেটে রাখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়কেই যদি ভ্যাট দিতে হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সুযোগ সুবিধা কমিয়ে আনা হবে বলে শিক্ষার্থীদের মেইল বার্তা দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টেসের ভিসি ড. ইমরান রহমান।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া ওই বার্তায় জানানো হয়, ভ্যাট বিরোধী আন্দোলন ইউল্যাব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীদের ভ্যাট বিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে ইউল্যাব সমর্থন করে।
এতে বলা হয়: বিশ্বের কোথাও শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের লভ্যাংশের ওপর ভ্যাট দেওয়ার বিধান নেই। যেহেতু ইউল্যাব অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এবং লভ্যাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সম্মানী, কর্মীদের বেতন এবং ল্যাবসহ অন্যান্য কাজে খরচ করা হয়, সেই সঙ্গে ইউল্যাব ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করে তাই বিশ্ববিদ্যালয়কেই যদি ভ্যাট প্রদান করতে হয় তাহলে ছাত্রদের দেওয়া সুবিধা কমিয়ে আনতে বাধ্য হবে কর্তৃপক্ষ।
ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে এসে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্যাট বসানোটা অন্যায়। ভ্যাট চাপানো দেশের সংবিধান পরিপন্থী। বিশ্বের কোথাও এমন নজির নেই।
তার দাবি, সরকার ও এনবিআর ধোঁয়াশা ছড়াচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোনো লাভজনক প্রতিষ্ঠান নয়। এরপরও সরকার ভ্যাট আরোপের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এখন সরকার ও এনবিআর বলছে কর্তৃপক্ষ ভ্যাট দিবে যা নতুন করে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
‘আসলে এই ভ্যাট তো শিক্ষার্থীদেরই দিতে হবে কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তো আলাদা কোনো আয়ের খাত নেই,’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার এরকম বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি আরো বেড়েছে।
তারা বলছে, কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়েই সরকারকে ভ্যাট দেবে, কারণ এক্ষেত্রে তারা শুধু মাধ্যম। গত চারমাসও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দিয়েছে কিন্তু টাকাটা গেছে শিক্ষার্থীদের পকেট থেকে।
ইউল্যাবের নবম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ফয়জুল ইসলাম বলেন: এখন টিউশন ফি আগেরটাই রেখে যে ভ্যাট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরাই টাকাটা দেবে, কর্তৃপক্ষ শুধু জমা দেবে। টাকাটা মোটেই বিশ্ববিদ্যালয় দেবে না। আর টিউশন ফি না বাড়িয়ে যে ভ্যাট দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে তাতে ওয়েভার-বৃত্তিসহ এমন অনেক সুবিধা কেটে নেওয়া হবে যেটা শেষ পর্যন্ত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাটের চেয়ে বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে।
‘শুনতে ভালো লাগে যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভ্যাট দেবে। কিন্তু সেটা আমাদেরই টাকা আর তাতে বিশ্ববিদ্যালয়েরে আয় কমলে তার সবচেয়ে বড় শিকার হবো আমরা।’







