দেশে করোনাভাইরাসের দাপট কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে সেটা এখনই খুশি হওয়ার মতো নয়। এরমধ্যেই আরেকটি সুখবর দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন: ১৮ বছরের নিচে শিক্ষার্থীদের ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন দেয়া হতে পারে।
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়: ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ১৮ বছরের ওপরে যে কোনো ভ্যাকসিন দেয়া যাবে। ১৮ বছরের নিচে হলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য দেশের নির্দেশনা দেখে ফাইজার ও মডার্নার ভ্যাকসিন দেওয়া হতে পারে। কীভাবে কিশোরদের ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে সে বিষয়ে ৫ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে।’
তিনি বলেন: ‘১২ বছরের বেশি হলে অন্যান্য দেশে যেভাবে দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে শিশুদের ফাইজার এবং মডার্নার ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। আমরাও এটি অনুসরণ করতে পারি।’ দেশের সকল নাগরিককে টিকার আওতায় আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বিষয়টিকে আমরা দেখতে চাই। এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন হলে করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশ আরও বহুদূর আগে যাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।
এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিনেশন করোনা প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায় বলে বিবেচিত হচ্ছে। এজন্য সরকার ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দেশব্যাপী টিকা দিয়েছিল। ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন মজুদ আছে জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন: ‘ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে যাদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। প্রথম ডোজ যে কেন্দ্র দেওয়া হয়েছে, দ্বিতীয় ডোজও একই কেন্দ্রে নিতে হবে। গ্রামের ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য মানুষের আগ্রহ কম ছিল, আমরা তাদের অনুপ্রাণিত করতেই এ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেলাম।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একথার সত্যতা পাওয়া যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মো. খুরশীদ আলমের কথায়ও। তিনি বলেন: ‘দেশে বর্তমানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই গ্রাম অঞ্চলের। তাদের বেশিরভাগই ভ্যাকসিন নেননি। তাই সেখানে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। এছাড়াও আক্রান্ত হয়ে অনেকে দেরিতে হাসপাতালে এসেছেন। যা বেশি মৃত্যুর আরেকটি কারণ।’
এজন্য গ্রামীণ পর্যায়ে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে টিকাদান এবং শিশু কিশোরদেরও টিকার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা সম্ভব হলে করোনা মোকাবেলা সহজ হবে বলে আমরা মনে করি। এজন্য যাবতীয় দুর্বলতা ও ভুলভ্রান্তি কাটিয়ে উঠতে হবে। একইসাথে ভ্যাকসিনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসাধু চক্রের বিরুদ্ধেও তৎপর হতে হবে। এজন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।







