রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্নস্থানে চলছে ভারী বর্ষণ। এই বর্ষণ আরো কয়েকদিন চলবে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে। সে সঙ্গে পাহাড়ী এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতাও জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উপকূল ও পাহাড়ী এলাকায় এই ধসের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। গতমাসেও রাঙামাটিতে ভূমিধসে ১০জন নিহত হয়।
বন উজাড়, অনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে চাষ, পাহাড়ে ঘর-বাড়ি নির্মাণ পদ্ধতিতে অনিয়ম এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ পদ্ধতিতে ত্রুটি বেশিরভাগ ভূমিধসের কারণ বলে উল্লেখ করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। আমাদের দেশের পাহাড়ী এলাকার মাটি অন্যান্য দেশের পাহাড়ের তুলনায় অন্যরকম বলে এখানে ভূমিধসের শঙ্কা বেশি। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হলে শঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
সমতলের বসতি নির্মাণ পদ্ধতিতে পাহাড়ে নির্মাণ হচ্ছে অসংখ্য বসতি। পাহাড়ে কীভাবে নিরাপদ বসতি নির্মাণ করতে হয়, সে বিষয়ে কোনো পরীক্ষিত নীতিমালা নেই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে ত্রাণ বিতরণ আর শোক প্রকাশ করা ছাড়া কিছু করার থাকছে না।
উপকূল ও পাহাড়ী এলাকায় জনবসতি পাহাড়ের আশেপাশে নয়তো সরাসরি পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রতি বছরই। গত বছর রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম এবং মৌলভীবাজার জেলায় ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৭৫। ওইসব এলাকায় প্রতিবছর হতাহতের ঘটনা ঘটলেও জনসচেতনতা বাড়ছে না। প্রবল বর্ষণের সময়গুলোতে ওইসব এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকে সরে যেতে প্রশাসন নির্দেশ দিলেও অনেকসময় তারা সরে যান না।
জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের জানমাল নিয়ে চিন্তার সঙ্গে এ বছর নতুন করে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। গত বছর আগস্টে দেশে আসা প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের প্রত্যন্ত পাহাড়ী এলাকায় পাহাড় কেটে অস্থায়ী আবাস তৈরি করেছে। তারা মারাত্মক ঝুঁকিতে আছে বলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ সাবধান করে আসছেন। দেশের পাহাড়ী এলাকার জনগণ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক।
শুধু বর্ষাকাল বা প্রবল বর্ষণের সময়েই না, সারাবছর ধরে এসব বিষয়ে ওইসব এলাকার মানুষদের সাবধান করতে হবে, জানাতে হবে; শেখাতে হবে, কী করে তারা ভূমিধসের মতো প্রাণঘাতি দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবে। পাহাড়ী জনপদের আবাসন বিশেষজ্ঞ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে সম্ভাব্য প্রাণহানির ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব বলে আমরা মনে করি।








