বার্মার সেনাবাহিনীর চালানো বর্বর ও নৃশংস অত্যাচার থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই পালিয়ে বাঁচতে চাইছেন। ইতোমধ্যে আট লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কক্সবাজারের কুতুপলং এবং নয়াপাড়া শরণার্থী শিবির ও আশেপাশে কোন রকমে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। খাবার, পানি, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়নি সিংহ ভাগ শরণার্থীর। এর উপরে প্রাকৃতিক কারণ যেমন- প্রচণ্ড বৃষ্টি ও প্রচণ্ড রোদে দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। কিন্তু অনেক রোহিঙ্গার কপালে এই দুর্ভোগ পোহানোর সৌভাগ্যও জুটছে না। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে গিয়ে ট্রলার বা নৌকা ডুবিতে এখন পর্যন্ত ২৪টির বেশি নৌকাডুবির ঘটনায় ১১২ রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে শিশু আছে ৫৮ জন, নারী ৩১ ও পুরুষ ২৩ জন। বৃহস্পতিবারও একটি নৌকা ডুবে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জলপথে পালিয়ে আসার মূল প্রতিবন্ধকতা অর্থ। চাইলেই একজন রোহিঙ্গা জলপথে করে বাংলাদেশে আসতে পারেন না। এজন্য ব্যক্তিভেদে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা করে দিতে হয়। নৌকা বা ট্রলার মালিকরা টাকা না পেলে অত্যাচার করে। যেকোন মূল্যে জলপথে করে ট্রলার বা নৌকায় চেপে বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। সবার আগে মিয়ানমার সেনাবাহনীকে তাদের গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। তারা এমন নির্যাতন শুরু করেছে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ মরার পথ বেছে নিচ্ছে। জলপথে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত আত্মহত্যারই সামিল। আমরা এর আগে দেখেছি ২০১৬ সালের শুধু মে মাসে ১ হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে লিবিয়ার উপকণ্ঠে ভূমধ্যসাগরে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এই তথ্য জানিয়েছে। এই মানুষগুলো ইউরোপে পাড়ি দেয়ার জন্য লিবিয়ার উপকণ্ঠে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যায়। দেশে দেশে দেশ ছাড়া মানুষগুলো জীবন হাতে নিয়ে স্বদেশ ছাড়ছে আর সাগরে তাদের মৃত্যু হচ্ছে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কিংবা নৌযানের ত্রুটির কারণে। বিশ্ব মানবতার দাবিদার দেশগুলো এ বিষয় নিয়ে নির্বাক। এখন পর্যন্ত আমরা এই অকাল সলিল সমাধির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কোন উদ্যোগ দেখছি না, এটাই আমাদের উদ্বেগ। বন্ধ হোক এইভাবে মানুষের মৃত্যুর মিছিল।









