সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন থেকে আর নিউজ সাইটের পেজ দেখতে পাবে না সিঙ্গাপুরের ব্যবহারকারী। দেশটির দাবি ফেক নিউজ (ভুয়া খবর) ঠেকানোর জন্য এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এমন সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিবিসি জানায়, ইতিমধ্যে ভুয়া খবর ঠেকানোর আইন পাস করে তার প্রয়োগ শুরু করেছে সিঙ্গাপুর। এরই অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া।
ফেসবুকের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয় সিঙ্গাপুরের নতুন আইন মানুষের বাকস্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে।
যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিপজ্জনক কন্টেন্ট তৈরি করে নিজেদের পরিচয় গোপন করতে, আইপি অ্যাড্রেস লুকিয়ে রাখছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে ৩৫ হাজার কর্মীর একটি দল রয়েছে ফেসবুকের, যাদের কাজ প্রতিটি কন্টেন্টের মূল্যায়ন এবং এর নিরাপত্তার দিকটি খতিয়ে দেখা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সংস্থাটি প্রতিদিন দশ লাখের বেশি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে।
দুদিন আগে জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা বিষয়ক এক সম্মেলনে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, কোনো বক্তব্য ‘আইনসম্মত ও বৈধ’ কি না সেটি বিচার করা ফেসবুকের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ হতে পারে না।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনে মিথ্যা খবর ও গুজব ছড়ানো বন্ধের জন্য ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ওপর চাপ বাড়ে।
সিঙ্গাপুর সরকার জানায়, বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিভেদ উস্কে দেওয়ায় ভুয়া খবরের জন্য কঠোর আইন দরকার এবং ফেসবুকে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া থামাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ২৭.৫ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট আছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনামের মতো দেশে ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি। ভুয়া অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় গ্রাহক একের বেশি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন।
এরআগে গেল বছরের ডিসেম্বরে ফেসবুককে এক ব্লগারের পোস্ট করা একটি ভুয়া পোস্ট কর্তৃপক্ষকে ঠিক করার নির্দেশ দিয়েছিল সিঙ্গাপুর। পরে দেশটির আইন মেনে ফেসবুক ওই পোস্টের নিচে একটি সংশোধনী বার্তা দেয়।
প্রটেকশন ফ্রম অনলাইন ফলসহুড অ্যান্ড ম্যানিপুলেশন অ্যাক্ট নামের আইনটি গত অক্টোবর মাস থেকে কার্যকর হয়।
ফেসবুকের সাম্প্রতিক ট্রান্সপারেন্সি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের আইন মেনে তারা বিভিন্ন কনটেন্ট ব্লক করে থাকে।







