চারের মার ৫৮টি। তা থেকে রান ৫৮×৪= ২৩২! দিন শেষে তিন উইকেট হারিয়ে সাউথ আফ্রিকার মোট সংগ্রহ ৪২৮।
দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ব্লুমফন্টেইনে কী ঘটেছে নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বরং অন্য আলোচনা করা ভালো।
প্রথম টেস্টের মতো এই ম্যাচের উইকেটে তেমন কিছু নেই। তবু বাংলাদেশ কী মনে করে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিল সেটা একটা প্রশ্ন। গাজী টিভির ‘ক্রিকেট এক্সট্রা’ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ পর্যন্ত বলছিলেন, ‘এই উইকেটে টস জিতে আগে বোলিং নেয়া চরম ভুল সিদ্ধান্ত।’ প্রথম ম্যাচের পর মুশফিক ভুল স্বীকার করে এই ম্যাচে শোধরানোর কথা বলেছিলেন। কিন্তু পুরনো প্রেম আর শোধরাতে পারলেন কই? ওই প্রেমে বরং আরও মরিয়া মনে হল তাকে!
শুরু থেকেই তালগোল পাকানো সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন। দিক পরিবর্তন করে মোস্তাফিজকে ব্যবহার করতে যেয়ে সৌম্যর হাতে বল তুলে দেন। প্রথম ছয় ওভারে ওই সৌম্যসহ মোট চার বোলারকে ব্যবহার করেন তিনি!
বোলাররাও কম যান না। প্রথম সেশনের ২৯ ওভারে এক মোস্তাফিজ ছাড়া কাউকে মনে হয়নি জাতীয় দলের বোলার। বাউন্সার দিতে যেয়ে প্রায় সবাই ক্রমাগত শর্টবল করে গেছেন। ভুল প্রেমের শুরু মূলত এখানেই।
ম্যাচের আগের দিন পেসারদের বাড়তি অনুশীলন করান বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। স্লিপে পাঁচজন রেখে রুবেল, শুভাশিসদের বাউন্সার মারতে দেখা যায়। এই দৃশ্য একটি সাক্ষ্য দিয়ে যায়। সেটা হলো বাংলাদেশ ভেবেছিল এই উইকেটে বাড়তি গতি আর বাউন্স পাওয়া যাবে। পেসারদের মাথায় ম্যাচের আগে সেই চিন্তাই ঢুকিয়ে দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে গেলে প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতি অনুধাবন করার ক্ষমতা থাকতে হবে আপনার ভেতর। এই টেস্টের প্রথম দিন অন্তত বলছে, বাংলাদেশি বোলারদের সেই ক্ষমতা নেই। কেননা প্রথম দুই ওভার শেষে বোঝা উচিত ছিল যা ভাবা হয়েছিল এই উইকেট তা নয়। অতএব বাউন্স আর গতিতে পরাস্তের চেষ্টা বাদ দিয়ে সুইং, কাটার, স্লোয়ারে মন দাও।
সেই কাজটা কেউ করলেন না। মোস্তাফিজ সহজাত কাটার ব্যবহার করলেও বারবার ওই শর্টবল করতে চেয়েছেন। দ্বিতীয় সেশন নাগাদ বোলাররা জমিনে ফিরে আসেন। শুভাশিসের যে শর্টবলে পুল করতে যেয়ে এলগার (১১৩) ফাইনলেগে ধরা পড়েন, তা শুধু শর্টবলই ছিল না। বৈচিত্র্য আনতে শেষ মুহূর্তে বলটি ঘোরানোর চেষ্টা করেন টাইগার পেসার। আর তাতেই ধরা দেয় ‘সোনার হরিণ’ উইকেট।
সর্বনাশ করে যায় স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি। প্রথম সেশনে ২৯ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ১২৬। দ্বিতীয় সেশন শেষে সেটা ২৫৬/১। ১২ বছর ধরে দুই শতাধিক রানের ওপেনিং জুটি দেখে না সাউথ আফ্রিকা। সবশেষ ২০০৫ সালে স্মিথ এবং এবি ডি ভিলিয়ার্স ওপেনিংয়ে দুইশ পার করেনে। ওয়ানডে স্টাইলে খেলতে খেলতে এলগার প্রথমে শতকে পৌঁছান, ১১৬ বলে। এই সমেয় চার হাঁকান ১৭টি! এরপর মার্করাম ১৪১ বলে শতক স্পর্শ করেন। তিনি চার মারেন ১৬টি।
বাংলাদেশি পেসাররা কতটা লাইন ছাড়া বল করেছেন তা আরেকটি ব্যাপার থেকে বুঝতে পারবেন। নিয়মানুযায়ী বল খুব একটা বাইরে না গেলে আম্পায়াররা টেস্টে ওয়াইড ডাকেন না। সেখানে মোস্তাফিজ একাই ওয়াইড করেছেন পাঁচটি। শুভাশিস রুবেল একটি করে। তার মানে পেসাররা সচেতন কিংবা অবচেতন, যেভাবেই হোক না কেন বাইরে বাইরে বল করেছেন। সচেতনভাবে করলে অর্থ একটাই পরিকল্পনায় গলদ। অবচেতনভাবে করলে ব্যর্থতার নামান্তর!
লাঞ্চ থেকে ফিরে বাংলাদেশ প্ল্যান ‘বি’তে নজর দেয়। উইকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে রানরেট কমানোর চেষ্টা করেন মুশফিক। ততক্ষণে স্পিনারদের অভাব টের পান। রিয়াদের সঙ্গে তাইজুলকে বেশি বেশি ব্যবহার করতে থাকেন। কিন্তু কোনো চেষ্টাই সর্বনাশ ঠেকাতে পারেনি। প্রথম দিন চারশতাধিক রানের বোঝা চেপেছে। এই বোঝা মাথায় নিয়ে পাঁচ দিন হাঁটা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন মনে হয় তোলাই যায়!
বাংলাদেশি বোলারদের চিত্র:
মোস্তাফিজ: ১৮ ওভার, ৭৮ রান, উইকেট নেই।
শুভাশিস: ২০ ওভার, ৮৫ রান, দুই উইকেট।
রুবেল: ১৮ ওভার, ৯১ রান, এক উইকেট।
সৌম্য: ৫ ওভার, ২১ রান, উইকেট নেই।
তাইজুল: ১৯ ওভার, ৯৮ রান, উইকেট নেই।
রিয়াদ: ৭ ওভার, ২৭ রান উইকেট নেই।
মুমিনুল: ১ ওভার, ৬ রান, উইকেট নেই।
সাব্বির: ২ ওভার, ১৬ রান উইকেট নেই।







