সাঁওতালি ভাষা স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছে সাঁওতাল স্টুডেন্টস্ ইউনিয়ন (সাসু), বাংলাদেশ। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর জন্য আলাদা ভূমি কমিশন গঠনেরও দাবি জানায় সংগঠনটি। নিজেদের অধিকারের প্রশ্নে কয়েকটি দাবি নিয়ে শুক্রবার সকালে শাহবাগ জাতীয় যাদুঘরের সামনে সংগঠনটি মানববন্ধনের আয়োজন করে। সংগঠনটি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজে অধ্যয়নরত সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর ছাত্রছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
সাসু’র নেতৃবৃন্দ দাবি করছেন, ‘সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের সভ্যতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চলের বনভূমি আবাদ করে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলেছে। সাঁওতালরা বাংলাদেশের সবচেয়ে সংস্কৃতিমনা জাতিগোষ্ঠী। অথচ আজ তারাই কিনা মাতৃভাষা এবং ভূমি অধিকার থেকে বঞ্চিত।’
সংগঠনটি বলছে, ‘গারো, চাকমা, ত্রিপুরা, মারমা সহ অনেক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর শিশুরা তাদের মাতৃভাষার প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক পেলেও এখন পর্যন্ত সাঁওতাল শিক্ষার্থীরা পায়নি। এতে করে তারা বিভিন্ন পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারছে না। শিশুদের মধ্যে স্কুলে যাওয়ার অনিচ্ছা লক্ষ্য করা যায়। মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক না থাকায় তারা অনগ্রসরতার শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে।ফলে তাদের আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থাও দিন দিন হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। সরকার তাদের মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ করেন সাসু’র নেতৃবৃন্দ।তারা বলছেন, ‘কিছু কুচক্রী মহলের কারণে তারা নিজেদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে’।
মানববন্ধন থেকে সংগঠনটি সরকারের নিকট কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাঁওতালি ভাষার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, অনতিবিলম্বে সাঁওতালি হরফে (রোমান) প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা, আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের জন্য আলাদা ভূমিকমিশন গঠন এবং গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ (বাগদা ফার্ম), দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার চিড়াকুটাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসীদের সাথে জমি বিরোধের মীমাংসা করতে হবে এবং আসামীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, সাঁওতালসহ অন্যান্য আদিবাসীদের জানমালের নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. লরেন্স বেসরা, নটরডেম কলেজের প্রভাষক দুলাল এস টুডু, লেখক ও গবেষক সুবোধ এম বাস্কে, সাসু’র সাবেক সভাপতি অনুজ সরেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীটির আগমন হয়েছিল দ্রাবিড়দেরও আগে অস্ট্রেলিয়া এবং সন্নিহিত প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপমালা থেকে। বাংলাদেশের জনসংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম এই জাতিগোষ্ঠীর লোকজন দীর্ঘদিন ধর ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সাঁওতালদের সংখ্যা প্রায় ১০ লক্ষ।পণ্ডিত রুঘুনাথ মুর্মু ১৯২৫ সালে সাঁওতালি ভাষার বর্ণমালা ‘অলচিকি’ আবিস্কার করেন। এ ভাষায় রচিত গল্প, ছড়া, কবিতা, গান, রূপকথা ইত্যাদি সুদূর প্রাচীনকাল থেকে মুখে মুখেই প্রচলিত হয়ে আসছে।
মানববন্ধনে সংগঠনটি আরও দাবি করে, তারা নিজেদের সমস্ত ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি লালন করে থাকে। একারণে তাদের দাবি যৌক্তিক। সরকার দাবি মানতে বিলম্ব করলে তারা আরও বড় পরিসরে আন্দোলনে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সাসু’র নেতৃবৃন্দ।







