ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্য আসরের মতো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) উজ্জ্বল শাহরিয়ার নাফীস। প্রতি মৌসুমে ব্যাটে রানের ফল্গুধারা ছুটিয়ে আলোচনায় থাকেন এই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে এবারও মনে রাখার মত কিছু করতে।
‘প্রথমত দলকে আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। ভাল ইনিংসের সংখ্যা আরও বাড়াতে চাই।’ নাফীসের বিপিএল পরিকল্পনা।
সিলেটে বিপিএলের পঞ্চম আসর মাঠে গড়াবে ৪ নভেম্বর। তার আগে অনুশীলন শুরু করেছে দলগুলো। বুধবার মিরপুরের একাডেমি মাঠে প্রথমবার অনুশীলনে নামে রংপুর রাইডার্স। অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা সাউথ আফ্রিকা থেকে ফিরে এখনও দলের সঙ্গে যোগ দেননি। তবে ছিলেন নাফীস, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, ইলিয়াস সানির মতো অভিজ্ঞরা। সবার মধ্যমণি হয়ে ছিলেন রংপুরের অস্ট্রেলিয়ান কোচ টম মুডি। দলটির প্রথম দিনের অনুশীলনে ছিলেন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিম, স্পিন বোলিং কোচ মোহাম্মদ রফিকও।
এমন কোচিং স্টাফ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন নাফীস, ‘ভাগ্যবান আমরা, টম মুডি আমাদের কোচ। নাজমুল আবেদিন ফাহিম স্যর আছেন। মোহাম্মদ রফিকের মতো লিজেন্ড ক্রিকেটার আছে। আমাদের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের চেষ্টা থাকবে টিমের জন্য ভাল পারফর্ম করা। পাশাপাশি কোচদের কাছ জানার যে বিষয়গুলো আছে তাতে উন্নতি করা।’
বিপিএলের গত আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে নাফীস শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষদিকে দেখা যায়নি চেনারূপে। এবার ভুল শুধরে নিতে চান তিনি। মাশরাফীর নেতৃত্বে রাইডার্সদের দেখতে চান ফাইনালের মঞ্চে।
গত চার আসরে ৩৪ ম্যাচ খেলে ৩০.৭০ গড়ে ৮২৯ রান করেছেন নাফীস। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের পর তৃতীয় সর্বোচ্চ গড় তার। রয়েছে একটি সেঞ্চুরি, ৬টি ফিফটি ছোঁয়া ইনিংস।
অন্য ফরম্যাটের লিগের তুলনায় বিপিএলে ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকতা কম থাকে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে নাফীস দিলেন দার্শনিক ব্যাখ্যা, ‘আমি যদি চারদিনের ম্যাচ খেলি, ১০টা ইনিংসের মধ্যে ৭ থেকে ৮টা ইনিংস ভাল হয়। ওয়ানডেতে সেটা কমে দাঁড়ায় ৬ থেকে ৭টায়। টি-টুয়েন্টিতে ৪-৫টা। ফরম্যাটটা কঠিন, তারপরও দেখেছি বিপিএলে বেশকিছু খেলোয়াড় খুব ভাল খেলেছে। গত বছর তামিম খুব ভাল খেলেছে। মুশফিক ভাল করেছে। চেষ্টা থাকবে গত বছরের ত্রুটি কাটিয়ে সেরা পারফরম্যান্স দেয়ার।’
দারুণ কোচিং স্টাফের সঙ্গে নাফীস এবার অধিনায়ক হিসেবে পাচ্ছেন মাশরাফীকে। দেশসেরা অধিনায়ক দলে থাকায় বাড়তি উৎসাহ পাচ্ছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান, ‘বাড়তি উৎসাহ তো অবশ্যই। মাশরাফী বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক এবং ওনার অধীনে খেলার জন্য আমরা সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। আশা করি বাংলাদেশ টিমকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে এসেছেন, রংপুর রাইডার্সকেও সেরকম একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবেন।’
রানেই আছেন। বয়সটাও একেবারে মেঘে ঢাকা নয়। জাতীয় দলের দরজাটা কি শিহরণ জাগায় এখনও? সেই প্রশ্ন তুলতেই একগাল হেসে নাফীস বললেন, ‘আমার টার্গেট যে টিমেই খেলি ভাল পারফর্ম করা। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া আমার উপর নির্ভর করে না। টিম ম্যানেজমেন্ট আছে, নির্বাচকরা আছেন। আমি পারফর্ম করতে চাই। বাকিটা নির্ভর করে তারা আমাকে নিতে চাচ্ছে কী চাচ্ছে না। এটা নিয়ে আমি একদমই চিন্তিত না।’








