চট্টগ্রাম থেকে: তামিম ইকবাল দলে নেই জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই। সাকিব আল হাসান ফিরেছেন এক সিরিজ পর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তার খেলা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও অধিনায়ক দলের অংশ হওয়ায় চনমনে টিম টাইগার্স। মাঠে ভালো কিছু করার আশাই করছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে বাংলাদেশ ও উইন্ডিজের মধ্যে সাদা পোশাকে লড়াই।
গত জুলাইয়ে উইন্ডিজ সফরে টেস্ট সিরিজে ভয়ঙ্কর বাজে পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে। ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা নিয়ে শুরু হয় সিরিজ। পরে আর সেভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি টাইগাররা। হতে হয় হোয়াইটওয়াশ (২-০)।
এবারও দুই ম্যাচের সিরিজ। ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় ভালো কিছুর আশা করছেন সাকিব। র্যাঙ্কিংয়ে ক্যারিবীয়দের কাছাকাছি অবস্থান হওয়ায় বাংলাদেশ অধিনায়কের কাছে এ সিরিজ পাচ্ছে বাড়তি গুরুত্ব।
‘আমি তো আশাবাদী, আমি মনে করি পুরো টিমও মনে করে ওদের সাথে ভালো করা সম্ভব। ভালো করার বিশ্বাসটা সবার ভেতরে আছে। যেহেতু দুই দলের র্যাঙ্কিং কাছাকাছি (বাংলাদেশ ৯, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮), মনে করি এই সিরিজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি আত্মবিশ্বাসী যে আমরা ভালো করবো।’
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা চোটে পড়ায় টেস্ট অধিনায়কত্ব পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। চলতি বছর অধিনায়কত্ব ফিরে পান উইন্ডিজ সফরেই। চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ার পর আবার ফিরছেন একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে।
জুলাইয়ে উইন্ডিজ সফরে যে দলটির নেতৃত্বে ছিলেন সেখান থেকে ছিটকে পড়েছেন লিটন দাস, নুরুল হাসান সোহান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহি।
এসেছেন সাদমান ইসলাম, নাঈম হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, আরিফুল হক। হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করেছেন সৌম্য সরকার। দল বদলালেও কম্বিনেশনের বৈচিত্র্যে আশাবাদী সাকিব। নির্বাচকরা যাদের সুযোগ দিচ্ছেন তারা যেন প্রতিদান দিতে পারেন সেটিই চাওয়া অধিনায়কের।
‘আমার কাছে দল ভালোই মনে হচ্ছে। সবকিছুরই ভালো কম্বিনেশন আছে। এখন সবাই মিলে ভালো কাজগুলো করতে হবে। সিলেক্টররা, মানুষরা যা মনে করে, আমরা যতটুক ক্যাপেবল, যেটা আমাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে, সবাই মিলে আমাদের সেটা করে দেখাতে হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে ৬টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। যার ৫টি হার স্বাগতিকদের। ড্র হয়েছে একটি ম্যাচে। পরিসংখ্যান সাকিবদের পক্ষে কথা না বললেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ টেস্টে দাপুটে জয় দলের মাঝে ফিরিয়ে এনেছে ইতিবাচক মনোভাব।
সদ্যগত সিরিজে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি, মুমিনুল হক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরি সরিয়ে দিয়েছে হতাশার মেঘ। যারা ভালো করতে পারেননি তাদের দিকে এবার প্রত্যাশা নিয়ে তাকাচ্ছেন সাকিব।
‘আমার ধারণা সবাই মানসিকভাবে ভালো অবস্থানেই আছে। দুই একজন হয়তো ওইভাবে ভালো ব্যাটিং করতে পারেনি। অবশ্যই সবাই বেশ ভালো ভাবেই চেষ্টা করবে সামনের ম্যাচগুলোতে পুষিয়ে দিতে।’
যদি খেলেন, সাকিবের হাতছানি থাকছে অনন্য এক মাইলফলক ছোঁয়ার। বাঁহাতি স্পিনে রাজত্ব করে চলেছেন লম্বা সময়, দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসলে উইকেটের ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে যেতে পারে উইন্ডিজ সিরিজেই। ২০০ থেকে মাত্র ৪ উইকেট দূরে আছেন সাকিব।

মিডলঅর্ডারের ভরসা মুশফিকুর রহিমও অপেক্ষায় আছেন চার হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক ছুঁতে। চার হাজারি ক্লাবে নাম লেখাতে মি. ডিপেন্ডেবলের দরকার মাত্র ৩১ রান।








