প্রায় দেড় যুগ অপেক্ষার পর ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলার স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। সময়ের ব্যবধান এতটা দীর্ঘ বলেই ‘ঐতিহাসিক’ তকমা পাচ্ছে সিরিজের একমাত্র ম্যাচটি। বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে শুরু হবে দু’দলের এ লড়াই।
১৫ সদস্যের দল থেকে কোন ১১ জন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সেদিকে আলাদা করে চোখ রাখতেই হচ্ছে। কেননা যারা একাদশে থাকবেন তাদের জন্য গর্ব করার মতোই উপলক্ষ এটি। ভারতের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি টেস্ট (৬টি) খেলা মোহাম্মদ আশরাফুল বৃহস্পতিবার একাদশে সুযোগ পেতে যাওয়াদের তাই ভাগ্যবানই মনে করছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে মুঠোফোনে আলাপকালে আশরাফুল বলেন, ‘স্ট্যাটাস পাওয়ার ১৬ বছর পর ভারতের মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এটা তো অবশ্যই অন্যরকম অনুভূতি সবার জন্য। ভারতে যারা খেলবেন, তারা ভাগ্যবান। শেষ পর্যন্ত যারা সুযোগ পাবেন তারা অনেক ভাগ্যবান।’
আশরাফুলের ধারণা, ভারতের সঙ্গে ম্যাচটা খুব কঠিন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। এমনটা মনে হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের অনভিজ্ঞ বোলিং আক্রমণ আর ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংকে মোটা দাগে সামনে আনলেন তিনি, ‘আমাদের জন্য অনেক কঠিন হবে এই টেস্ট ম্যাচটা। যদিও আমরা প্রায় ১৭ বছর ধরে টেস্ট খেলছি কিন্তু দেখেন… আমাদের বোলিং ইউনিট আনকোড়া। এই টিমের মধ্যে ৭-৮ জন আছে যারা ১০ বছর ধরে টেস্ট খেলছে, বাকিরা নতুন। রাহানে, পুজারা, কোহলিদের সামনে বোলারদের কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। কিন্তু ওরা তো জানে না কীভাবে সেই পরিস্থিতিতে বোলিং করে যেতে হয়।’
১৫ সদস্যের দলে থাকা চার পেসারের খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ১৬ টেস্ট। শফিউল ইসলাম ৯, কামরুল ইসলাম রাব্বি ৪, তাসকিন আহমেদ ২ ও শুভাশিষ রায় খেলেছেন ১টি করে টেস্ট। তাই বোলিংয়ে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে বলে মনে করছেন আশরাফুল।
বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে অবশ্য ইতিবাচক তিনি, ‘আমাদের ব্যাটিংটা ঠিক আছে। প্রথম সারির সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে ছয়জনেরই ২০টির বেশি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। দুর্ভাগ্য যে ইমরুল কায়েস ইনজুরির কারণে খেলতে পারছে না। নিউজিল্যান্ড সিরিজের কথা যদি ধরি, ফলাফল হয়তো আমাদের পক্ষে আসেনি তবে, ব্যাটিং কিন্তু খারাপ হয়নি।’

ভারতের বিপক্ষে এ পর্যন্ত আটটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ও সবশেষ টেস্ট ছাড়া বাকি সব ম্যাচই খেলেছেন আশরাফুল। ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের মালিকও তিনি। ১১ ইনিংসে ৩৮৬ রান এসেছে তার ব্যাটে। যার মধ্যে একটি শতক ও দুটি অর্ধশতক।
নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষককে ভয়ঙ্কর টিম উল্লেখ করে আশরাফুল বলেন, ‘আমরা যে সময় খেলেছি তখন তো টেস্ট দল হিসেবে একেবারে নতুন ছিলাম। ভারতের মাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে যে টেস্ট সিরিজ দেখলাম, তা দুর্দান্ত। অবশ্য তারা এক-দুই বছর ধরেই খুব ভয়ঙ্কর দল। আমরা যখন খেলেছি তখনও ব্যাটিংয়ে ওরা অসাধারণ ছিল। সেসময়ও ব্যাপারটা একইরকম ছিল। তখন গম্ভীর, শেবাগ, সৌরভ, শচীন, লক্ষণরা ছিলেন। এখন অন্যরা।’
ভারতের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে পারাটা বিশেষ কিছু বলেই মনে করেন আশরাফুল, ‘ভারতের সাথে ম্যাচ খেললে একেকটা খেলোয়াড়কে আলাদা করে পরিচয় করায়। ওদের সাথে ভালো করলে আলাদা ফোকাস হয়। ভারতের ম্যাচ সে দেশের প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ খেলাটা ফলো করে। তাছাড়া এখন ভারত র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দল। সবমিলে এ ম্যাচের গুরুত্ব অনেক।’
সবদিক ভেবেও ভালো কিছুর আশা হারাচ্ছেন না আশরাফুল। টাইগারদের জন্য তাই শুভকামনাও ঝরে তার কণ্ঠে।








