পর্দায় পাকিস্তানের মুন্নিকে দেশে ফেরানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন ‘বাজরঙ্গী ভাইজান’ সালমান খান। এই ছবির গল্পের পরপরই ১৪ বছর পাকিস্তানে কাটিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ হয়েছে ভারতের মেয়ে গীতার। কিন্তু মুন্নি-গীতার মতো বাংলাদেশের রমজানের কপাল এতোটা ভালো না। তবু একজন বাজরাঙ্গী ভাইজানের অপেক্ষায় আছেন কিশোর রমজান, যিনি তাকে পাকিস্তানে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিতে পারেন।
১০ বছর বয়স পর্যন্ত পাকিস্তানি মা এবং বাংলাদেশী বাবার সাথে করাচিতে থাকতেন রমজান। কিন্তু পাঁচ বছর আগে তার মাকে ছেড়ে বাবা মোহাম্মদ কাজল বাংলাদেশে চলে আসে এবং আরেকটি বিয়ে করেন। সৎ মা তাকে প্রায় নির্যাতন করতো এবং বাবা তা সমর্থন করতো। মাঝে মধ্যে নির্যাতনের জন্য তার বাবাকে প্ররোচিত করতো সৎ মা।
সৎ মা আর বাবার নির্যাতনের সহ্য করতে না পেরে রমজান সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানে মায়ের কাছে ফিরে যাওয়ার। তার কিছু বন্ধু তাকে পরামর্শ দেয়, ভারতের ভেতর দিয়েই পাকিস্তানের যাওয়া একমাত্র সহজ পথ। এরপরই সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের পৌঁছায় ১৫ বছরের মোহাম্মদ রমজান।
রাঁচি, মুম্বাই, নয়াদিল্লি হয়ে ভূপালে পৌঁছান রমজান। তবে ভূপালে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যান। ২০১৩ সাল থেকে সেখানে আছেন তিনি। এরপর তাকে একটি কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে রাখা হয়। তদন্ত চালানো তার ভারতের প্রবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে। তদন্ত শেষে দেখা যায় ঘটনা সত্য। এরপরই হিন্দুস্থান টাইমসের এক সাংবাদিকের কাছে পাকিস্তানের ফেরার আকাঙ্খার কথা জানান রমজান।
তিনি বলেন, ‘আমি করাচি’র মুসা কলোনিতে থাকতাম। আমার বয়স যখন ১০ বাবা তখন মাকে ফেলে রেখে আমাকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে এবং আরেকটি বিয়ে করে। সৎ মা চুরির অভিযোগে নির্যাতনের প্রায়ই বাবাকে প্ররোচিত করতো। এভাবে কিছুদিন কাটানোর পর বাড়ি ছেড়ে পালাই এবং কুমিল্লায় পৌঁছাই। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর কয়েকজনের সাথে বন্ধুত্ব হয়। তারা আমাকে বলে যদি পাকিস্তানে যেতে চাই তাহলে আগে ভারতের যেতে হবে। কারণ পাকিস্তান যাওয়ার এটাই শটকাট রাস্তা।’
রমজান আরো জানান, ‘কুমিল্লা থেকে আমি নৌকায় করে ভারতে পৌঁছাই। রাঁচি, মুম্বাই এবং দিল্লি যাই। কিছুদিন কাটাই দিল্লির হযরত নিজামউদ্দিন দরগায়। এরপর কলকাতা যাওয়ার জন্য ট্রেনে উঠি। কিন্তু ভূপাল স্টেশনে পুলিশের কাছে ধরা পড়ি। তারা আমাকে কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠায়। তখন থেকেই আমি অপেক্ষায় আছি কখন করাচি যাবো, মাকে দেখবো। করাচিতে আমাদের নানিও থাকেন। তাদেরকে খুব মনে পড়ছে।’
ভূপালের শিশু কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের পরিচালক অর্চনা শাহা বলেন, ‘ রমজান আমাদের এখানে আসার পর আমরা জানতাম সে রাঁচি থেকে এসেছে। কিন্তু তদন্তের পর জানায় আসলে সে কে। এরপরই পুরো ঘটনা আমরা জানতে পারি।’
অর্চনা আরো বলেন, ‘রমজানের ঘটনা জানার পর আমরা গোয়েন্দা সংস্থা ও শিশু কল্যাণ সংস্থাকে খবর দিই। তারা তদন্তের পর জানতে পারে ঘটনা সত্য। তবে আমরা এখনো কোনো দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। তবে কিছু এনজিওর সাথে যোগযোগ হয়েছে এবং হচ্ছে।’
তবে ভূপালের শিশু কিশোর সংশোধন কেন্দ্রের চেয়ারপার্সন কেএস দুবে বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাংলাদেশ দূতাবাসকে আমরা একটি চিঠি দিয়েছি। চিঠিতে আমরা সবকিছু উল্লেখ করেছি। কারণ এটাই একমাত্র দূতাবাস যার তাকে (রমজান) ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে।’







