ভারতে পাচার হয়ে যাওয়া নারীদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া আরো সহজ করতে ‘লাল ফিতার দৌরাত্ম’ বন্ধ করছে বাংলাদেশ। এর আগে লাল ফিতায় বন্দী নানান ফাইলের জন্যই ভারতে উদ্ধার হওয়া নারীদের দেশে ফেরাতে কখনও কখনও লেগে যেত ৭ থেকে ৮ বছর। কিন্তু এখন মাত্র ২ মাসের মধ্যে পাচার হওয়া নারীদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবর্তনটা এসেছে এ বিষয়ে ভারতে বাংলাদেশ অ্যাম্বাসির কনস্যুলার সেকশনের হেড মোশারফ হোসেনের খানিকটা আন্তরিক হওয়ার কারণে। ইতোমধ্যে তিনি ৪৩৮ জন নারীকে দেশে পাঠিয়েছেন, যাদের অর্ধেকই গত ছয় মাসে মহারাষ্ট্র থেকে ফিরে এসেছেন নিরাপদ আশ্রয়ে।
২০১৫ সালে নয়াদিল্লীতে অবস্থিত বাংলাদেশ অ্যাম্বাসিতে কনস্যুলার সেকশনের হেড হিসেবে কাজ শুরু করেন মোশারফ হোসেন। গত দুই বছরে ভারতের যৌনপল্লীতে পাচার হয়ে যাওয়া নারীদের দ্রুত স্বদেশে প্রেরণের বিষয়কে তিনি মিশন হিসেবে ধরে কাজ করছেন। এছাড়া তখন থেকেই পাচারের শিকার নারীদের ভ্রমণ পারমিট ক্লিয়ার করা এবং এসব নারীদের যৌন হয়রানি থেকে রক্ষা করতে তিনি সচেষ্ট হন।
বার্তাসংষ্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, অনেক নারী লম্বা তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য শুধু শুধু লম্বা সময় ধরে দুর্ভোগ পোহায়। আমি এমনও অনেক নারীকে দেখেছি যারা ঘরে ফিরতে সাত বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে।
তিনি বলেন, সাধারণত গরীব নারী ও শিশুদেরই লক্ষ্য করে পাচারকারীরা। তাদের ভালো চাকরির প্রস্তাব দিয়ে ভারতে নিয়ে গিয়ে পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়।
সেভ দ্য চিলড্রেন ইন্ডিয়ার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জ্যোতি নালে বলেন, শুধুমাত্র হাইকমিশন কর্মকর্তার আগ্রহের কারণে কাজটা এখন একটু সহজ হচ্ছে। এই বছরের মে মাসে পুনের রেসকিউ ফাউন্ডেশন শেল্টার থেকে ২২ নারীকে দেশে পাঠানো হয়েছে, এখন আরো ১৮-১৯ জন নারীর ভ্রমণ পারমিট এসেছে।
‘আগে যেখানে কয়েকবছর লাগতো সেখানে লম্বা সময়ের অপেক্ষা এখন কমে এসেছে মাত্র দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসে। মোশারফ হোসেন অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশের সঙ্গে মিলে বিষয়টি দেখছেন এবং বর্ডারের দুই পাশের চ্যারিটি সংস্থা থেকে তাদের ঠিকানা ও ফোন নম্বর যোগাড় করে কথাবার্তা বলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ঘরে ফেরা নিশ্চিত করছেন।’
রয়টার্সকে তিনি বলেন, আমি মনে করি পদক্ষেপ নেওয়ার সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মেয়েদের দিকে নজর রাখা ও তাদের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের দ্বায়িত্ব।







