তুমুল বিরোধিতা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নির্যাতনের শিকার অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতে বিল পাস করেছে ভারতের লোকসভা।
ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় মঙ্গলবার বিলটি পাস হয়। আজ উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও এটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ধর্মীয় সহিংসতার শিকার হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা ভারতে থাকার আবেদন করলেই মিলবে নাগরিকত্ব।
বিলটি পাস হওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় সরব হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো। কংগ্রেসসহ বামপন্থি দলগুলো বলছে, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বাইরের মানুষদের নাগরিকত্ব দেয়ার এমন আইন ভারতের সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
প্রস্তাবিত আইনটিকে ‘বিভেদমূলক’ এবং ‘ত্রুটিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ‘নাগরিকত্ব (সংশোধন) বিল, ২০১৯’ প্রস্তাব করার সাথে সাথেই জ্যেষ্ঠ কংগ্রেস নেতা মল্লিক অর্জুন খার্গে বিরোধিতা করে বলেন, বিলটিতে এমন কিছু ‘ভুল’ আছে যেগুলো আসাম চুক্তির বিরুদ্ধে যায়।
এজন্য এটি পূনর্বিবেচনার উদ্দেশ্যে একটি নির্ধারণী কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেন তিনি।
কিন্তু স্পিকার তার আবেদন নাকচ করে দিলে খার্গে ও তার দলের অন্যান্যরা সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতারাও নতুন বিলটিকে ‘বিভেদমূলক’ ও ‘হঠকারী’ বলছেন এবং দাবি করছেন, এটি ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক ভিত্তিগুলোর বিরুদ্ধে।
‘এটা ভোট-ব্যাংক রাজনীতির সবচেয়ে জঘন্য রূপ,’ বলেন বিরোধী দল টিএমসি প্রধান সওগাত রায়।







