১২১ থেকে ১৫৫, চতুর্থ উইকেট থেকে দশম উইকেট, ৩৪ রানের নাটকীয় ধসে ৭ উইকেট হারিয়ে মেলবোর্ন টেস্টে হেরে বসল ভারত। ১৮৪ রানের জয়ে পাঁচ টেস্টের সিরিজে ২-১এ এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে সিরিজের শেষ টেস্টটি খেলবে দুদল।
বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি সিরিজের চতুর্থ টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৭৪ রানে থেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখানে ভারত প্রথম ইনিংসে যেতে পারে ৩৬৯ পর্যন্ত। স্বাগতিকরা ১০৫ রানের লিড সঙ্গী করে দ্বিতীয় ইনিংসে নামে, ২৩৪ রানে অলআউট হয়। ভারতের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪০ রানের।
একটা সময় ম্যাচ ড্রয়ের দিকে হাঁটতে থাকলেও অজিদের বোলিং তোপের সামনে অবিশ্বাস্য ধসে ১৫৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারত, ৭৯.১ ওভার লড়াই করে। এই হারে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা আরও ধাক্কা খেল রোহিত শর্মার দলের। অন্যদিকে প্যাট কামিন্সের অস্ট্রেলিয়ার চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হল।
রোমাঞ্চকর এক জয়ে চব্বিশঘণ্টা আগে চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথম দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে সাউথ আফ্রিকা। সেঞ্চুরিয়ন টেস্টে টেম্বা বাভুমার প্রোটিয়াবাহিনী ২ উইকেটে হারায় পাকিস্তানকে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় চক্রে সাউথ আফ্রিকা ১১ ম্যাচে ৭ জয়ের পিঠে ৩টিতে হেরেছে, ড্র ১টিতে। পয়েন্ট ৮৮, জয়ের হার ৬৬.৬৭। দুইয়ে অস্ট্রেলিয়া, ১৬ ম্যাচে ১০ জয়ে ১১৮ পয়েন্ট ও জয়ের হার ৬১.৪৬। তিনে ভারত ১৮ ম্যাচে ৯ জয়ে ১১৪ পয়েন্ট, জয়ের হার ৫২.৭৮। বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে দল দুটি সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টে লড়বে নতুন বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে।
সোমবার টেস্টের পঞ্চম দিনে চা বিরতি পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ রেখেছিল ভারত। বোর্ডে ১১২ রান, হাতে ৭ উইকেট, উইকেটে যশস্বী জয়সওয়াল–রিশভ পান্ট থিতু হয়েছেন। কিন্তু বিরতির পরপর সব পাল্টে যায়। চতুর্থ উইকেটে ৮৮ রানের জয়সওয়াল–পান্টের জমাট জুটিটা ভেঙে দেন অনিয়মিত বোলার ট্র্যাভিস হেড। শুরু হয়ে যায় ভারতের আসা-যাওয়ার মিছিল।
ভারতের দেড়শর কাছে গুটিয়ে যাওয়ার পথে সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল জয়সওয়ালের, ৮৪ রানে। প্রথম ইনিংসে ৮২ রান করেছিলেন তরুণ সেনসেশন। রিশভ পান্ট করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান। বাকিদের কেউ দুঅঙ্কের ঘর ছুঁতে পারেননি।
অধিনায়ক রোহিত শর্মা ৯, লোকেশ রাহুল শূন্য, বিরাট কোহলি ৫, রবীন্দ্র জাদেজা ২, প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তরুণ নিতীশ কুমার রেড্ডি ১, আকাশ দীপ ৭, জাসপ্রীত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন।
প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ড নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট, ২টি নিয়েছেন নাথান লায়ন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও ট্র্যাভিস হেড।







