লক্ষ্য ৩৩৮ রানের। এই টার্গেটের সামনে দাঁড়িয়েও ভারত প্রথম পাওয়ার-প্লে’তে (১০ ওভার) নেয় মাত্র ২৮ রান। শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের ইনিংসে আছে সাতটা ডট বল, ২০টা সিঙ্গেলস, তিনটে বাউন্ডারি আর একটা ছক্কা!
ভারতের এই অদ্ভুতুড়ে নীতি অবাক করছে ক্রিকেট দুনিয়াকে। হার্দিক পান্ডিয়া ফেরার পরে কী কারণে ৪৫ নম্বর ওভার থেকেই হঠাৎ সিঙ্গেলস নেয়ার রাস্তায় চলে যান ধোনি আর কেদার যাদব, তার ব্যাখ্যা ম্যাচ শেষ হওয়ার পরেও এজবাস্টনের গ্যালারিসহ পুরো ক্রিকেট বিশ্বই খুঁজছে। হার-জিতের পার্থক্য মাত্র ৩১ রানের বলেই প্রশ্নটা কোটি টাকার। যেখানে অক্ষত থেকেছে ৫ উইকেটও।
হার্দিক ফেরার পরে পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৭১। ক্রিজে ধোনি, সঙ্গে আইপিএলে তার চেন্নাই সুপার কিংসে খেলা সতীর্থ কেদার যাদব। টি-টুয়েন্টির যুগে পাঁচ ওভারে ৭১ অহরহ হয়ে থাকে। সেখানে রান তাড়া করে ফিনিশ দূরের কথা, বড় শটই আসল না ধোনি-যাদবের ব্যাট থেকে। ক্রমাগত সিঙ্গেলস নিয়ে নিয়ে ম্যাচকে মেরে ফেলার অর্থ কী, সেই প্রশ্নে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া।
তাহলে কি হার্দিক ফিরতেই ধোনি-কেদার ধরে নিয়েছিলেন, আর জেতার চেষ্টা করারই দরকার নেই? এজবাস্টনের ছোট মাঠে ইংল্যান্ড ইনিংসে আছে ১৩টা ছক্কা, সেখানে ভারতের ৫০ ওভারে মাত্র একটা! সেটাও ম্যাচ একেবারে মরে যাওয়ার পরে শেষ ওভারে মেরেছেন ধোনি।
পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, জেতার চেষ্টাটা থাকবে না? হার্দিক (৩৩ বলে ৪৫) যতক্ষণ ছিলেন, ম্যাচে ভালোভাবেই ছিল ভারত। কিন্তু তারপরেই ধোনি-কেদার জুটির ব্যাখ্যাহীন স্লো ব্যাটিং।
স্বভাবতই শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের স্লো ব্যাটিংই বারবার উঠে আসে ম্যাচ শেষে। তীরের মতো প্রশ্ন ছুটে যায় ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির দিকেও। সেসব প্রশ্নের উত্তর কোহলি অবশ্য নিজের মতো করেই দিয়েছেন, ‘এটা যে দু’জন ক্রিজে ছিলেন, তাদের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপার। আমার মনে হয়, এমএস বাউন্ডারির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছিল, কিন্তু তারা (ইংল্যান্ড) দারুণ জায়গায় বল রাখছিল। আমরা নিজেদের মধ্যে বসে এই ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলব, যাতে পরের ম্যাচে উন্নতি করা যায়।’
একই কথা বলছেন সেঞ্চুরি পাওয়া রোহিত শর্মাও। বলেছেন, ‘এমএস আর কেদার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু উইকেট স্লো হয়ে গিয়েছিল। মারা কঠিন ছিল।’
ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন ছিল ইংল্যান্ড অধিনায়ক ইয়ন মরগানের কাছেও। ইংলিশ অধিনায়কের ব্যাখ্যা, ‘আমার কেন অসুবিধে হবে? আমরা শুধু নিজেদের জয়ের কথা ভাবছিলাম।’
ভারতের অধিনায়ক আর সহ-অধিনায়ক যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তার কোনো মানে খুঁজে পাওয়া কঠিন। যেখানে কোহলি এও বলেছেন যে, ‘একদিকের বাউন্ডারি ছিল মাত্র ৫৯ মিটার। আমাদের এখানে অনেক ক্লিনিক্যাল হওয়া উচিত ছিল। তারা আর একটু অ্যাকসিলারেট করলে হয়তো টাগের্টের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারতাম।’
ভারতীয় অধিনায়কের আরও বক্তব্য, ‘একটা ম্যাচে হারতে হতেই পারে। সব দলকেই এই বিশ্বকাপে হারতে হয়েছে। তবে এটা একটা শিক্ষা বলতে পারেন। আশা করা যায়, পরের ম্যাচের আগে এই ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নেয়া যাবে।’
ম্যাচে হার-জিত থাকবে। কিন্তু দেখতে হবে, জেতার চেষ্টা কতটা ছিল? শেষ পাঁচ ওভারে উঠল মাত্র ৪০ রান! অদ্ভুতভাবে কেদার আর ধোনি দুই রান এক রান করে নেন!
এদিন ভারত জিতলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শেষ চারে যাওয়ার রাস্তা খানিকটা উজ্জ্বল হত। কিন্তু সেই আশা ধাক্কা খাওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়া এবং মাঠে ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। যে দলে আছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ফুটবলার গ্যারি লিনেকার থেকে সৌরভ গাঙ্গুলিও।
ধোনিদের ব্যাটিংয়ে অবাক সৌরভ। বিস্মিত ভারতের সাবেক অধিনায়ক ম্যাচের পর বলেন, ‘এরচেয়ে ৩০০ রানে অলআউট হয়ে গেলে বোধহয় এতটা খারাপ দেখাত না! কিন্তু হাতে পাঁচ উইকেট রয়ে গেল, রান তাড়া করা গেল না, এটা অবাক হওয়ার মতো।’
ম্যাচ শেষে ইংলিশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক লিনেকার বলেছেন, ‘অদ্ভুতভাবে শেষ হল ম্যাচটা।’







