ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন।
সম্প্রতি পেঁয়াজের লাগামহীন দাম বাড়ায় রোববার পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
ভারতের এমন সিদ্ধান্তের পর রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের বাজারে এর প্রভাব কতটা পড়বে? এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা মিশর, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ ভর্তি দুটি জাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে এসে পৌঁছেছে।’
‘‘এছাড়াও চলতি সপ্তাহেই তুরস্ক ও মিশর থেকে পেঁয়াজ আসবে বাংলাদেশে। এসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আসলে ভারতের পেঁয়াজের উপর নির্ভর করতে হবে না। বাংলাদেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে না পারলেও দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি হবে না। দামও বাড়বে না।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। উৎপাদন ও মজুদের ঘাটতির কারণে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের এ সিদ্ধান্ত।

এ বছর বন্যায় ভারতের বিভিন্ন অংশ প্লাবিত হওয়ায় চলতি বছরে মৌসুমি পেঁয়াজ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দেয় সেখানে। ফলে ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাই গত জুনে ভারত সরকার রপ্তানি ১০ শতাংশ কমানোর ঘোষণা দেয়। কিন্তু রোববার থেকে পুরোপুরি রপ্তানির বন্ধের ঘোষণা দেয়।
সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ হলো ভারত। বাংলাদেশও সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করে ভারত থেকে। ফলে ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারেও স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব পড়ে।
গত বছর ভারত থেকে প্রায় ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়।
বর্তমানে বাজারে দেশি বাছাই করা পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, মাঝারি পেঁয়াজ ৮০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ৬৫ টাকা ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবার দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ টনের মতো। অবশ্য এর প্রায় ৩০ শতাংশ সংরক্ষণের সময় পচে যায়।







