শুরু আর শেষে যা একটু মিল। বাকিটা ভারতীয় বোলারদের সাফল্যের গল্প। ওপেনাররা সকালটা ভালোমতো পার করার পর মাঝখানে ধ্বস। এরপর শেষ বিকেলে হ্যাজেলউডকে (১*) নিয়ে ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠা স্টার্কের প্রতিরোধ (৫৭*)। প্রথমদিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ২৫৯/৯।
স্টার্ক কেমন লড়াই করেছেন তা স্কোরবোর্ড বোঝাতে পারছে না। তিনি ক্রিজে আসতেই নাথান লায়ন ফিরে গিয়েছিলেন। এরপর শেষ সঙ্গী হিসেবে পান হ্যাজেলউডকে। ৫১ রানের জুটি গড়ার পথে হ্যাজেলউডের অবদান মাত্র ১!
প্রথম সেশনে এক উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়া শুরুতে স্বস্তিতেই ছিল। দ্বিতীয় সেশন শেষ হতে হতে সেই স্বস্তি উবে যায়; তিন উইকেট নেই! রান মাত্র ৬৯। এই সময়ে শন মার্শ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব এবং অধিনায়ক স্মিথকে হারায় অজিরা। শেষ উইকেট জুটিতে জশ হ্যাজেলউড এবং মিচেল স্টার্ক ‘মান বাঁচানো’র লড়াই করেন।
ভারতের মাটিতে টেস্টে গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া শুধু হারই দেখছে। শেষ ৭টি টেস্টেই ভারতীয়দের বিপক্ষে হেরেছে তারা। অজিদের এ অবস্থা শুধু ভারতেই নয়, গোটা এশিয়াতেই তারা টেস্টে সুবিধা করে উঠতে পারছে না। এশিয়ার মাটিতে খেলা শেষ ৯ টেস্টেই হার দেখেছে দলটি।
পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথমদিনে পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উমেশ যাদব একাই কাঁপিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে। ১২ ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। আইপিএলে অবিক্রিত ইশান্ত শর্মা ১১ ওভার বল করে উইকেট পাননি ঠিকই, কিন্তু রান দিয়েছেন মাত্র ২৭। সবচেয়ে বেশি বল করেছেন অশ্বিন। খরচের দিক থেকেও সবচেয়ে বেশি ‘কিপটে’ তিনি, ৩৪ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন। আরেক স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ২৪ ওভারে ৭৪ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন।
ভারতের এমন নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাঝে ম্যাট রেনশ (৬৮) এবং ডেভিড ওয়ার্নার (৩৮) শুরুতে ভালোই ব্যাট চালান। ৮২ রানের মাথায় তাদের জুটি ভাঙে। গত ৭ ইনিংসে এই দুজন ৪টি অর্ধশতকের জুটি উপহার দিয়েছেন অজিদের।
মিডল অর্ডারে অধিনায়ক স্মিথ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ৯৫ বল খেলে সেট হওয়ার আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অশ্বিনের সামনে খেই হারান। কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২৭ রানে সাজঘরের পথ ধরেন। এরপর যাওয়া আসার মিছিলে স্টার্কের ‘অন্তিম লড়াই’। আর তাতেই দিন পার।








