ভারতীয় দর্শকদের গুণ্ডামিতে আবারো কলঙ্কিত হলো ক্রিকেট। বিখ্যাত ইডেন গার্ডেনসে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পর আবারো কালো দিন ফিরে এলো ক্রিকেটে।
সোমবার দর্শকের উচ্ছৃঙ্খলতায় কটকে অনুষ্ঠিত ভারত-সাউথ আফ্রিকা দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচ বন্ধ ছিলো আধাঘণ্টা। দুই ওভার পর খেলা শুরু হলেও আবার দুদলকেই মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ জিতে নেয় সাউথ আফ্রিকা।
মাত্র ৯২ রানে অলআউট হয়েছিলো ভারত। জবাবে ১৭ বল বাকি থাকতে চার উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নেয় প্রোটিয়ারা।
সাউথ আফ্রিকার ইনিংসের ১১তম ওভার শেষে থামিয়ে দিতে হয় খেলা। বৃষ্টির মতো গ্যালারি থেকে উড়ে আসতে থাকে পানির বোতল। তখন ৫৪ বলে ২৯ রান দরকার ছিল সাউথ আফ্রিকার। বাধ্য হয়ে দুই আম্পায়ার খেলা থামিয়ে দেন। ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন আসেন। গ্যালারির ওই অংশ থেকে তখন দর্শকদের বের করে দেন নিরাপত্তাকর্মীরা।
অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির শুরু হয় খেলা। কিন্তু দুই ওভার পর আবারও দর্শকদের একটি অংশে বোতল ছোড়াছুড়ি শুরু করলে খেলা থেমে যায়। এবার পুরো গ্যালারিই ফাঁকা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
দর্শকদের ছোড়া বোতলগুলো বেশিরভাগই ছিলো পানিভর্তি। বৃষ্টির মতো ধেয়ে আসা বোতলের কোনোটা লেগেছে পুলিশের মাথায়, কোনোটা ক্যামেরাম্যানের মাথায়। আঘাত থেকে বাদ যায়নি ক্যামেরার লেন্সও।
খেলোয়াড়দের বাঁচানোর জন্য বাধ্য হয়ে হিসেবও করে ফেলা হয়, জানানো হয় ম্যাচ শুরু করা না গেলে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে সাউথ আফ্রিকাকে জয়ী ঘোষণা করা হবে।
সেসময় পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমে ঘোষক বারবার বলছিলেন, এবার আপনার থামুন। দয়া করে ম্যাচটা শুরু হতে দিন। কিন্তু জঙ্গি স্টাইলের সমর্থকদের মেজাজ এতোটাই উগ্র ছিলো যে, উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত ফাঁকা করে দিতে হয় গ্যালারির একাংশ।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল মাঝপথে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো। প্রথম ব্যাট করে লঙ্কানদের করা ২৫২ জবাবে ১২০ রানে ভারতের ৮ উইকেট আউট হওয়ার পর দর্শক হাঙ্গামায় খেলা বন্ধ করেন ম্যাচ রেফারি। এরপর ১৯৯৯সালে এশীয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শেষ করতে সম্পূর্ণ খালি করতে হয়েছিলো ইডেনের গ্যালারি।
কটকের ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার, ভিভিএস লক্ষণ ও পাকিস্তানের রমিজ রাজা।
গাভাস্কার বলেন, ভারতের জয়ের সময় আপনি যদি মূল্যবান কিছু না ছোড়েন, তাহলে ভারত হারলে আবর্জনা ছোড়ার অধিকার আপনার নাই।
আর লক্ষণ বলেন, ভারতের পারফর্মেন্সে দর্শকরা হতাশ হতে পারেন, কিন্তু তারা যে পথে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, যে আচরণ করেছেন তা খুবই দুঃখজনক।
দর্শকদের উচ্ছৃঙ্খলতার কারণে ক্ষমা চেয়েছেন ভারতের টেস্ট অধিনায়ক বিরাট কোহলি। মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় একথা জানান তিনি।
এবি ডি’ভিলিয়ার্সদের উদ্দেশ্যে টুইট বার্তায় কোহলি বলেন, গতকালের(সোমবার) আচরণের ক্ষমা চাইছি। আমরা সবাই তোমাদের ভালোবাসি প্রোটিয়াস।






