আজ বয়স হয়েছে ৩৭ বছর, কিন্তু জন্মতারিখ অনুযায়ী নবম জন্মদিন। হিসাব অনুযায়ী আজ তার জন্মদিন হওয়ার কথা হলেও ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেয়ায় উদযাপন করতে পারছেন না দিনটি। তিনি এম এ হাই মিল্টন। জন্ম ১৯৮০ সালে বগুড়া জেলায়। লিপ-ইয়ারে জন্ম নেয়া মিল্টন এখন কর্মরত আছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের, সুরক্ষা সেবা বিভাগে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে।
চ্যানেল অাই অনলাইনকে নিজের জন্মদিন নিয়ে তিনি বলেন, ২৯ ফেব্রুয়ারি জন্মদিনের বিষয়টা সবসময়ই অনেক বেশি আলাদা মনে হয়। মনে হয় অনেক বেশি স্পেশাল। দিনটা স্পেশাল হলেও নিজেকে অবশ্য স্পেশাল মনে করেন না।
‘আমি মনে করি স্পেশালিটি নির্ভর করে মানুষের আচরণে, কর্মে ব্যক্তিত্বে।’
জন্মদিন উদযাপনের অভিজ্ঞতা জানতে চাইতেই হেসে ফেলেন সরকারী এ কর্মকর্তা। ‘এখন পর্যন্ত জন্মদিন হওয়ার কথা ছিল ৩৭ টা, কিন্তু পালন করেছি ৯টা। বিষয়টা অনেক আনন্দ দেয়। অপেক্ষায় থাকি চার বছর। চার বছর পরপর অাসে এইদিন।’
এভাবে প্রতি বছর জন্মদিন উদযাপন করতে না পেরে তিনি বরং খুশি। ‘প্রচণ্ড ভাললাগা কাজ করে, মনের ভেতরে বিরাজ করে নীরব ভাল অনুভূতি। আমি গর্বিত আমার জন্মদিন নিয়ে।’
জন্মদিন পালনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান: প্রতিবছরই ২৮ ফেব্রুয়ারি এলে বন্ধুরা রাত ১২ টায় শুভেচ্ছা জানায়। ফেসবুক ও মোবাইলের ইনবক্স ভরে যায় শুভেচ্ছা বার্তায়। আমিও তাদের এই ভালবাসার প্রত্যুত্তর দেই। কিন্তু কখনোই মনে হয় না এই দিনটা আমার জন্মদিন। সবসময়ই অপেক্ষায় থাকি লিপ-ইয়ারের।
‘আমার পরবর্তী জন্মদিন হবে ২০২০ সালে। তখন আমার মেয়ে ওয়াফিকা অ্যাভলিনের বয়স হবে ৫ বছর। ইচ্ছা আছে সে বছর অনেক আড়ম্বরের সঙ্গে জন্মদিন পালন করব।’
তাহলে আজ কী করছেন? মিল্টন জানান: আর দশটা সাধারণ দিনের মতই কাটবে আজকের দিনটা। কোন বিশেষ কিছু কখনোই করতে ইচ্ছা করে না এই দিনে।
এই কর্মকর্তা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে। আর তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে পালন করা জন্মদিনটাই তার স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বলে। ভালবেসে বন্ধুরা তাকে সবসময়ই বলেন, তোর মত স্পেশাল মানুষের জন্মদিন এমন স্পেশাল দিনেই হতে হয়। সবার এই সমর্থন ও ভালবাসায় ভালই কাটে তার লিপইয়ারের জন্মদিন।
শরীফুল ইসলাম রাদী
আরেকজন লিপ-ইয়ার ম্যান শরীফুল ইসলাম রাদী।
‘আমার জন্মদিনটা নিয়ে কথা হয় খুব বেশি। আমার পরিচিতরা সবাই আমার জন্মদিনটা মনে রাখে। আমার মায়ের এখন অনেক বয়স হয়ে গেছে। অনেক কিছুই ভুলে যান। কিন্তু কখনোই তিনি আমার জন্মদিনটা ভুলে যান না। অার তাই ২৯ ফেব্রুয়ারি আমার অনেক বেশি প্রিয়,’ এভাবেই নিজের জন্মদিন বলছিলেন, পওমি গ্রুপের সিনিয়র মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ শরীফুল ইসলাম রাদী।
১৯৮৪ সালে চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করা এই যুবকের বয়স ৩৩ বছর হলেও পালন করেছেন মাত্র ৮টি জন্মদিন। চার ভাই দুই বোনের মধ্যে রাদী পঞ্চম। রাদী বলেন, খুব ভাল লাগে যখন মা অন্য ভাইবোনদের জন্মদিন ভুলে গেলেও অামারটা ঠিকই মনে রাখেন। অনেক আগে থেকেই নিতে থাকেন প্রস্তুতি।
প্রতি বছরের জায়গায় চার বছর পরপর জন্মদিন পালন করতে কেমন লাগে জানতে চাইলে রাদী বলেন: অনেক বেশি ভাল লাগে। কাজ করে এক অন্যরকম ভাললাগা। সেই সঙ্গে বেঁচে যায় খরচটাও। প্রতিবছর খরচ না করে চার বছর পরপর বন্ধুদের সঙ্গে উদযাপন করি দিনটি।
কিছুটা হেসে রাদী বলেন, বিয়েটাও লিপ-ইয়ারে করবেন বলে তিনি ঠিক করেছেন।
রাদী জানান, সবচেয়ে ভাল লাগে তখনই যখন নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হবার পর তারা আমার জন্মদিনটা শোনার পর অবাক হয়ে যায়। এ পর্যন্ত নতুন পরিচিত খুব কম মানুষকেই বিশ্বাস করাতে পেরেছি যে আমার জন্মদিনটা ২৯ ফেব্রুয়ারি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করা রাদী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালে বন্ধুরা তার জন্মদিনে এক সারপ্রাইজ পার্টি দিয়েছিল। নির্মল আনন্দের সেই দিনটির কথা মনে হলে এখনো আনন্দিত হন রাদী । আর তাই সেই দিনটি এখনো ভাললাগার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
কোন এক জন্মদিনে পাওয়া একটি গোলাপ ফুলকেই রাদী জন্মদিনে পাওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবেও মনে রেখেছেন।







