সাউথ আফ্রিকা বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ। এ ম্যাচে প্রোটিয়াদের ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। এই জয়ের ফলে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা নিশ্চিত করলো মাশরাফি বাহিনী। প্রথম ম্যাচে সফরকারীদের বিপক্ষে ৮ উইকেটে হেরে ছিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ।
ওয়ানডে ক্রিকেটে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়। এর আগে ২০০৭ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ৬৭ রানে জিতেছিলো টাইগাররা। আর টেস্ট খেলা যেকোনো দলের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি বল হাতে রেখে বাংলাদেশের ম্যাচ জেতার রেকর্ড এটি।
টস জিতে প্রথম ব্যাট করে চার ওভার বাকি থাকতে ১৬২ রানে অলআউট হয় সাউথ আফ্রিকা। জবাবে ২২ দশমিক ৩ ওভার হাতে রেখে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
১৬৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতে নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। দলীয় এবং ব্যক্তিগত ৫ রানে আউট হন তিনি।
আগের ম্যাচে ৬ উইকেট নিয়ে রেকর্ড গড়া কাসিগো রাবাদার করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বল ক্রিজ ছেড়ে বাইরে এসে খেলতে গিয়ে আউট হন তামিম। উইকেটের অনেক বাইরের বল ব্যাটের ভেতরের অংশে লেগে স্ট্যাম্প উপড়ে দেয়।
তামিম ফিরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের ইনিংস গোছানোর চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার ও লিটন দাস। কিন্তু ১৪ বলে ১৭ রান করে রাবাদার দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন লিটন।
২৪ রানে দুই উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন সৌম্য ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। উইকেট আগলে রেখে রানের চাকা ভালোভাবেই সচল রাখেন এ দুই ব্যাটসম্যান। মাত্র ৪৭ বলে ৯ টি চারের সাহায্যে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন সৌম্য। এটি ওয়ানডে ক্রিকটে তার তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। ব্যক্তিগত ৫৯ রানে নিশ্চিত আউট থেকে রক্ষা পান সৌম্য। ফারদিন বিহারদিয়ানের বলে উঠিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। কিন্তু প্রোটিয়াদের তিন ফিল্ডার কাছাকাছি থেকেও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে কেউ ক্যাচ ধরতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৭৯ বলে ৮৮ রানে অপরাজিত থাকেন সৌম্য।
হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। বিশ্বকাপের পর দলে অনিয়মিত হয়ে পড়া রিয়াদ দলে ফিরে দ্বিতীয় ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি করলেন। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফসেঞ্চুরি। তবে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করার পরপরই তিনি আউট হয়ে যান। ৬৪ বলে ৬ টি চারের সাহায্যে ঠিক ৫০ রান করেন তিনি। ফেরার আগে সৌম্যর সঙ্গে ১৩৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি।
প্রোটিয়াদের হয়ে কাসিগো রাবাদা ২ টি ও কাইল অ্যাবট ১ টি উইকেট নেন।
দলের সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ জুলাই চট্টগ্রামে।






