নেটে ব্যাট হাতে মোহামেডান অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বোলিং মার্কে তাইজুল, জুবায়ের আর মিরাজ। তাইজুল, জুবায়ের, তামিম ঘণ্টাখানেক পর বেরিয়ে গেলেন। পড়ে থাকলেন মিরাজ। তাকে সঙ্গ দিতে এগিয়ে এলেন মোহামেডান কোচ সোহেল ইসলাম। মিরাজ থাকলেন আরও এক ঘণ্টা। ব্যাট হাতে।
প্রথম বেঞ্চের ছাত্রের মতো হাতেকলমে ঝালিয়ে নিলেন ফুটমার্ক, ল্যান্ডিং আর ফলো-থ্রু’র খুঁটিনাটি। মোহামেডানের জার্সি গায়ে থাকলেও এত কিছু যে শুধু প্রিমিয়ার লিগের জন্য নয়; সেটি বুঝতে বাকি থাকল না কারও।
পরে মিরাজ নিজেই জানালেন সামনে ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ বলেই তার এত পরিশ্রম, ‘সামনে আমাদের আয়ারল্যান্ড সফর ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টাইট শিডিউল আছে। সেখানে চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। তাছাড়া মাত্র শ্রীলঙ্কা সিরিজ শেষ করলাম। প্রিমিয়ার লিগ চলছে, তাই ভাল পারফরমেন্সের জন্য অনুশীলন করছি।’
এ বছর দেশের বাইরে বেশি খেলছে বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হয়েছে। দেশের বাইরে আরও দুটি সফর অপেক্ষা করছে।
দেশের বাইরে খেললে আত্মবিশ্বাস কতটা বাড়ে সে কথা শোনালেন মিরাজ, ‘আমরা এবছরই দেশের বাইরে বেশ কয়েকটি সিরিজ খেলেছি। কিন্তু এরআগে দুই তিন বছর ধরে দেশের মাটিতেই খেলেছি। তার আগের বছরগুলোতে নিউজিল্যান্ড কিংবা ইংল্যান্ডেও কিন্তু যাওয়া হয়নি। দেশের বাইরে খেলা আমাদের এখন বেশ সাহায্য করছে। কেননা বাইরের কন্ডিশন সম্পর্কে জানতে পারছি। এতে করে আমরা অভিজ্ঞ হচ্ছি, আত্মবিশ্বাসী হচ্ছি। বিশেষ করে আমরা যারা জুনিয়র আছি, তারা ওসব দেশের কন্ডিশন সম্পর্কে জানতে পারছি। জুনিয়রদের জন্য এটা একটা ইতিবাচক দিক।’
গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাব মিরাজের। ২ ম্যাচে ১৯ উইকেট নেন এই তরুণ। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় তার। সব ফরম্যাটেই নিজের সামর্থ্য দেখিয়ে চলেছেন ১৯ বছরের এই তরুণ।
‘তিন ফরম্যাটই উপভোগ করছি। আমি চিন্তা করি না যে শুধু টেস্ট প্লেয়ারই হব, ওয়ানডে খেলব বা টি-টুয়েন্টি বিশেষজ্ঞ হব। তিন ফরম্যাটেই খেলব, যে ফরম্যাটে যেভাবে খেলা দরকার সেভাবেই খেলব। আমি ওই ভাবেই নিজেকে তৈরি করছি।’








