সংসদের কর্মীদের সঙ্গে ব্রিটিশ এমপি-মন্ত্রীদের ব্যাপক যৌন কলেঙ্কারির তথ্য ফাঁস হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠায় কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। যৌন কলেঙ্কারির তালিকায় দুইজন কেবিনেট মন্ত্রীসহ ২০ জন মন্ত্রী রয়েছেন।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাউজ অফ কমন্সের স্পিকারকে চিঠি দিয়েছেন মে।
দি সান জানায়, টোরি পার্টির সহযোগীরা এবং গুইডো ফোকস ওয়েবসাইটে ৩৬ জন এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত যৌন আচরণের ঘটনা প্রকাশ করে। শুধু টোরি পার্টির নয়, লেবার পার্টির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করা হয়।
এতে বলা হয়, একজন মন্ত্রী পার্টিতে এক নারীর গায়ে হাত দেয় এবং আরেকজন অখ্যাত সদস্য মাতাল অবস্থায় নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করছিলেন। আরেকজন মন্ত্রী ঘটনা চেপে যাওয়ার জন্য ঐ নারীকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। যেখানে অন্যজন তার নারী সেক্রেটারিকে যৌনতার আমন্ত্রণ জানান।
একজন কেবিনেট মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এক নারী সাংবাদিককে কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ওই সাংবাদিকের ঊরুতে হাত দিয়ে বলেন, ‘হায় ঈশ্বর, আমি তোমার এগুলো পছন্দ করবো’।
এছাড়া আরও এক অখ্যাত সদস্যের ভিডিও প্রকাশ পায় যেখানে তিনি তিনজন কর্মীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচরণ করছিলেন।
শুধু পুুরুষ সদস্যের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, তা নয়। একজন নারী এমপির বিরুদ্ধে একজন পুরুষ গবেষকের বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত দৈহিক মিলনের অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া এমপি-মন্ত্রীদের এ ধরণের আরও অনেক অভিযোগ রয়েছে যেগুলো চেপে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ পেয়ে নড়েচড়ে বসেন টেরেসা মে। তিনি মন্ত্রীরা আইন ভঙ্গ করছেন কিনা তা তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি স্পিকারকে চিঠিতে বলেন, এ ধরণের ঘটনা আর সহ্য করা হবে না। এটা কর্মীদের জন্য ভালো কিছু নয়, যাদের অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে এখানে কাজ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংসদের প্রতি জনগণ এবং কর্মীদের ভরসা আছে। এ ধরণের অনিয়মের সমাধানে উভয় দলের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্পিকারকে তিনি বলেন, এ ধরণের অন্যায়ের কারণে সংসদের সুনাম ক্ষুণ্ণ না হয় সেজন্য আপনার অফিস পর্যাপ্ত সহযোগিতা করলে আমি আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো।
কর্মীদের অভিযোগের সুবিধার্থে স্বাধীন মধ্যস্থতা পরিসেবা ঘটনের জন্য তিনি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান।








