ফ্রান্সের প্যারিসের পর এবার বেলজিয়ামের ব্রাসেলস। মঙ্গলবার পরপর কয়েকটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে ব্রাসেলসের জাভেনটিম বিমানবন্দর। এর ঘণ্টাখানেক পরই মালবিক মেট্রো স্টেশনে হয় আরেকটি বোমা হামলা। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩৪, আহত কয়েকশ মানুষ।
ব্রাসেলসে বর্বর হামলার পর সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থায় রয়েছে পুরো বেলজিয়াম। এর মধ্যেই নিহতদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক। ঘৃণ্য হামলায় শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো ইউরোপ।
বেলজিয়ামে বন্ধ রয়েছে বিমান চলাচল। তবে আবার চালু হয়েছে মেট্রো যোগাযোগ।
প্যারিস হামলার কায়দায়ই ঘটানো হয়েছে এই বোমা হামলাটি। দু’টোই যেনো একই সূত্রে গাঁথা।
গত ১৩ নভেম্বর প্যারিসে কনসার্ট হল ও রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হয়েছিলো ১৩৭ জন। আইএস ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিলো।
প্যারিসে হামলার পর থেকেই তদন্তকারীদের মনোযোগের কেন্দ্র হয়ে ওঠে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস। ব্রাসেলস হামলার সন্দেহভাজনদের ধরতে শহরটিতে অভিযানের পর অভিযান চালাতে থাকে ইউরোপীয় বাহিনী। এছাড়া আইএস লোক নেয়, ব্রাসেলসের এমন কিছু এলাকা চিহ্নিত করে আইএসকে থামাতে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।
এর প্রথম কারণ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক সংযোগ। জানুয়ারিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অফ র্যাডিকেলাইজেশন এন্ড পলিটিক্যাল ভায়োলেন্স’ এর তথ্যানুযায়ী, ইরাক ও সিরিয়াসহ মধ্যপাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেলজিয়ামের ৪৪০ জন জিহাদি যুদ্ধ করছে। এটা মাথাপিছু হিসাবে ফ্রান্সের দ্বিগুণ ও ব্রিটেনের চারগুণ।
ব্রাসেলসের বহু নাগরিকের ইরাকে নিয়মিত যাওয়া-আসা রয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গিদের অর্থ ও সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তা করে থাকে বলে ধারণা ই্উরোপের নিরাপত্তা সংস্থার।
আর দ্বিতীয় কারণ হলো, প্যারিস হামলার সঙ্গে জড়িত অন্তত ৩ জন ব্রাসেলসে বসবাস করতো। প্যারিস হামলার পরিকল্পনাও ব্রাসেলসে বসেই করা হয় বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তারা। বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী হামলার ক্ষেত্র হয়ে ওঠা বেলজিয়ামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যান জামবোন নিজেই তখন বলেছিলেন, সরকার কোনোভাবেই সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।
প্যারিস হামলার পর ১৮ মাসে পঞ্চমবারের মতো বড় ধরণের সন্ত্রাসী হামলায় বেলজিয়ামের নাম উঠে আসে। আর এবার এলো নতুন এক হামলার ঝড়, তাও খোদ ব্রাসেলসেই। দেশটির প্রধানমন্ত্রী চার্লস মিশেল বলেন, ‘আমরা একটি সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছিলাম, আর অবশেষে সেটা ঘটেই গেলো।’
মাত্র কয়েকদিন আগে, শুক্রবার ব্রাসেলস থেকে আটক করা হয় প্যারিস হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সালাহ আবদেসসালামকে। ধারণা করা হচ্ছে, প্যারিস হামলায় সরাসরি জড়িত ১০ জনের মধ্যে শুধু সে-ই জীবিত আছে। ফ্রান্সের নাগরিক হলেও আবদেসসালামের জন্ম বেলজিয়ামে।
আবদেসসালামকে ধরতে অভিযান ও গ্রেফতারের ধারাবাহিকতায়ই ব্রাসেলসে হামলাটি হয়েছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
ব্রাসেলস হামলার সঙ্গে জড়িত যে তিন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাদের মধ্যে হামলার সময় নিহত হয়েছে দু’জন। বেঁচে থাকা একজনকে ধরতে ব্রাসেলস জুড়ে ওয়ান্টেড নোটিশ জারি করে অভিযান চলছে। প্যারিস হামলার মতো ব্রাসেলসকে রক্তাক্ত করার দায়ও স্বীকার করেছে জঙ্গি সংগঠন আইএস।






