সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সম্মানে রোববার দ্বিতীয়ার্ধে বসবেন না দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
রোববার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাচ বিচারপতির আপিল বিভাগে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও বার কাউন্সিলের নেতা ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে সদ্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ভূমিকা রেখেছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। আর এর আগে এই আদালতের সিনিয়র আইনজীবী ও সভাপতির মৃত্যুতে আদালত না বসেনি। তাই মইনুল হোসেনের বিষয়টি আপনাদের নজরে আনছি।’
তখন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন আমরা (আপিল বিভাগ) ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সম্মানে রোববার দ্বিতীয়ার্ধে (সকাল ১১:৩০ থেকে ১:১৫ মিনিট পর্যন্ত) আদালতে বসবেন না। আর হাইকোর্ট বসা না বসার বিষয়টি পরে জানানো হবে।
এর আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন শনিবার ৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান গেছেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। ৮৩ বছর বয়সী প্রবীণ সাংবাদিক, রাজনীতিক ও আইনজীবী স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বারিধারা জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজার নামাজ হবে। এরপর দৈনিক ইত্তেফাক ভবনের সামনে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ এবং জোহরের নামাজের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের তৃতীয় জানাজার নামাজ শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি তখন আইন, তথ্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিকতা ও আইন পেশার পাশাপাশি মইনুল হোসেন রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রথম জাতীয় সংসদে বরিশালের ভান্ডারিয়া-কাউখালী আসন থেকে সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের প্রতিবাদে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
মইনুল হোসেন ঢাকার নবাবপুর সরকারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৬১ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। একই বছরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ‘মিডল টেম্পল ইন’ এ আইন বিষয়ক পড়াশোনা করেন। ১৯৬৫ সালে বার থেকে ব্যারিস্টার-ইন-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা বারে যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৬৫ সালে তিনি আইনপেশা শুরু করেন। বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের সময় তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন ২০০০-২০০১ সালে।








