ব্যাটিংয়ে সর্বনিম্ন রানের লজ্জার রেকর্ডের পর বোলাররাও ডুবিয়েছেন হতাশায়। অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৪৩ রানের জবাবে ক্যারিবীয়দের ব্যাটে রানের পাহাড় গড়ার ইঙ্গিত।
প্রথম দিন শেষে উইন্ডিজের সংগ্রহ ২ উইকেট হারিয়ে ২০১ রান। স্বাগতিক দলের ১৫৮ রানের লিড সাকিব-তামিমদের ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কায় ফেলছে।
ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৮৮ ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা দেবেন্দ্র বিশু ১ রানে অপরাজিত আছেন। স্মিথ ৫৮ ও পাওয়েল ৪৮ রান করে আউট হন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ৪৩, উইন্ডিজ ২০১/২
দলীয় ১১৩ রানের মাথায় প্রথম শিকারের দেখা পায় বাংলাদেশ। ততক্ষণে অবশ্য ক্যারিবীয়দের লিড ৮০ রানে পৌঁছেছে। অভিষিক্ত পেসার আবু জায়েদ রাহী ওপেনার স্মিথকে উইকেরক্ষক নুরুল হাসানের ক্যাচ বানিয়ে পান দলের ও নিজের প্রথম উইকেটের দেখা।
শেষ বিকেলে দ্বিতীয় সাফল্যটি আনেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। এ অফস্পিনারের বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ তুলে দেন পাওয়েল। দলের রান তখন ১৯৪।
স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকালটা ছিল বাংলাদেশের জন্য বিভীষিকার। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর, ৪৩ রানে অলআউট হয় সাকিব আল হাসানের দল। একবিংশ শতাব্দীতে টেস্টে এটিই সর্বনিম্ন রানে অলআউটের রেকর্ড।

তিন স্বাগতিক পেসার মিলে দখলে নেন বাংলাদেশের ১০ উইকেট। কেমার রোচ শুরুর পাঁচ উইকেট তুলে নেয়ার পর কামিন্স দুটি ও শেষে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার তিন উইকেট নিলে ১৮.৪ ওভারেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দুই অঙ্কে পৌঁছান কেবল লিটন দাস (২৫)।
বাংলাদেশের আগের সর্বনিম্ন রানের ইনিংসটি ছিল ৬২। ২০০৭ সালে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ছিল সেটি।
দ্বিতীয় মেয়াদে সাকিবের নেতৃত্বে ফেরা আর নতুন কোচ স্টিভ রোডসের পথচলা শুরুর সফরে এতটা কঠিন পরিস্থির সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ তা হয়তো ভুলেও ভাবেনি কেউ।
টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার রেকর্ড নিউজিল্যান্ডের। ১৯৫৫ সালে অকল্যান্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা অলআউট হয় ২৬ রানে। বিংশ শতাব্দীতে পঞ্চাশের আগে গুটিয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে বেশ কটি। তবে একবিংশ শতাব্দীতে টেস্টে এটিই (৪৩) সর্বনিম্ন রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ড।
আগের রেকর্টি ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৪ সালে নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিবীয়রা অলআউট হয় ৪৭ রানে।
এদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট খেলার আশরাফুলের(৬১ টেস্ট) রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে দ্রুতই ক্রিজের দিকে হাঁটতে হয় মুশফিকুর রহিমকে। ২২ গজে থাকাও হয়নি বেশিক্ষণ। কেমার রোচের তোপে আসলে টিকে থাকতে পারেনি পুরো টপঅর্ডারই।
স্কোরবোর্ডে ১৮ রান উঠতেই বাংলাদেশের ৫ জন ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। পরে খানিকক্ষণ টিকে থাকার পরীক্ষা দিয়ে ফিরে গেছেন লিটনও। দ্রুতই তাকে অনুসরণ করেন সোহান। তারপর গুটিয়ে যাওয়া!
শুরুতে ১৬ রানে মধ্যে তামিম ইকবাল ও মুমিনুল হকের উইকেট হারিয়ে বসা দলকে উদ্ধারের দায়িত্ব পড়েছিল মুশফিকের কাঁধে। ব্যক্তিগত মাইলফলকের ম্যাচে উল্টো রানের খাতাই খুলতে পারেননি। আউট হয়ে বাংলাদেশকে ফেলে দেন চাপে।
সেই চাপ উতরে দিতে ব্যর্থ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব, সেটিও রানের খাতা খোলার আগেই। কেমার রোচের ওই ওভারে উইকেট পড়ে তিনটি।
বাংলাদেশের প্রথম ৫ উইকেটের সবকটি নিয়েছেন ডানহাতি ফাস্ট বোলার রোচ। শুরুতে তামিম ৫, মুমিনুল ১ রানে ফেরেন। মুশফিক-সাকিবের মতো রানের খাতা খুলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহও।
একপাশ আগলে রাখা লিটন ফিরেছেন ২৫ রানে। তাকে ফেরান কামিন্স। পরে সোহানকেও (৪) সাজঘরে পাঠান এ পেসার। মিরাজ ১, রাব্বি ০ ও রাহি ২ রান করে সাজঘরে ফিরলে ৪৩ রানেই থেমে যায় সফরকারীদের ইনিংস।








