দুই সিটি কর্পোরেশনের চেষ্টায় ফুটপাথে স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলো উচ্ছেদের পর কিছুদিন হকারমুক্ত ছিল রাজধানীর ফুটপাথ। কিন্তু ঈদকে ঘিরে এখন আবার ফিরে গেছে সেই পুরাতন চেনা রূপে। ফুটপাথ কানায় কানায় ভরে গেছে হকারের সাজানো বিভিন্ন পণ্যে। তবে পণ্যের অভাব না হলেও এখনও জমে ওঠেনি বেচাকেনা।
বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেচা-বিক্রি অনেক কম। আগামি সপ্তাহ থেকে অর্থাৎ জুন মাসের শুরু থেকে বেচা-কেনা বাড়বে বলে তাদের প্রত্যাশা।
তবে বিক্রি কম হলেও কমেনি তাদের ব্যবসায়িক দৈনন্দিন ব্যয়। বরং অন্যান্য বছরের তুলনায় বেড়েছে। এখন কয়েক ধাপে বিভিন্ন স্থানীয় প্রভাবশালীকে চাঁদা দিতে হয় বলে জানান তারা। ওইসব প্রভাবশালীরা ফুটপাথের এলাকা ভাগ করে নিয়েছে নিজেদের মতো করে।
রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, কারওয়ান বাজার, পান্তপথসহ কয়েকটি স্থান ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
চলতি মাসের শুরুতে মতিঝিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইত্তেফাক মোড় যেতে হাতের বাঁ পাশে রাস্তায় ও পান্থপথে বসুন্ধরা সিটির সামনের রাস্তার ফুটপাথ ছিল ফাঁকা। কোনো হকার ছিল না। কিন্তু এখন এই দুটি সড়কের ফুটপাথে মানুষ হাঁটার জায়গা নেই। রোজার ঈদকে সামনে রেখে লাইনম্যানেরা নতুন নতুন হকার বসাচ্ছেন ফুটপাথ ও রাস্তায়।
জানা গেছে, ফুটপাথের কোন অংশ কে বরাদ্দ পাবেন তা নিয়ে রীতিমত ফুটপাথকে নিলামেও তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। যিনি বেশি টাকা দিবেন তার ভাগ্যেই মিলবে ফুটপাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শুধু এই দুটি স্থানই নয়, রাজধানীর জনাকীর্ণ সব ফুটপাথের চিত্র একই রকম।
নিলামে ফুটপাথ বিক্রির এককালীন রেট হচ্ছে, ৫ হাত বাই ৫ হাত জায়গার জন্য অগ্রিমবাবদ দিতে হয় ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। এটা মৌসুমি হকারদের জন্য। তবে শাপলা চত্বরের সোনালী ব্যাংক থেকে পশ্চিম দিক ও আলিকোর গলিতে রেট আরো বেশি। এছাড়া দৈনিক স্থানভেদে প্রতি দোকানে চাঁদা দিতে হয় ২শ থেকে ৬শ টাকা।
মতিঝিল পেট্রল পাম্পের পাশে মিজানুর নামে এক হকার চ্যানেল আই অনলাইনকে জানান, তারা স্থান ভেদে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিদিন লাইন খরচ বাবদ ৫শ টাকা খরচ পড়ে। তাই এখন কোনোমতে টিকে আছেন।
দিলকুশায় বিনিয়োগ বোর্ডের সামনে প্যান্ট বিক্রি করা মিজানুর চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: লাইনম্যানকে দিতে হয় ২শ, পুলিশকে ২শ, ভিটি (স্থান) ভাড়া দিতে হয় ২শ। মোট ৬শ টাকা দৈনিক ভাড়া বাবদ খরচ হলেও বেচাবিক্রি তুলনামূলক কম। তবে আগামি সপ্তাহ থেকে বিক্রি বাড়বে। অর্থাৎ রোজা যত কমে আসবে ততই বিক্রি বাড়বে বলে জানান তিনি।’
বসুন্ধরা সিটির সামনে দিয়ে যাওয়া সড়কের ফুটপাথে ৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন জিয়া নামের এক হকার। তিনি বলেন, এই ফুটপাথে তার তিনটি শার্টের দোকান রয়েছে। পুলিশে বন্ধ করে দেয়ায় গত এক মাস বেকার ছিলেন। সব হকার মিলে লাইনম্যান ও পুলিশকে টাকা বাড়িয়ে দিয়ে নতুন করে দোকান সাজিয়েছেন।
গত বছর শবে বরাতের পর থেকেই ঈদকে ঘিরে বেচাবিক্রি হলেও এবার তা দেখা যাচ্ছে না জানিয়ে এই হকার বলেন: ‘এবার কেন জানি কাস্টমার কম! ৮ রোজা শেষ। কিন্তু আগের মাল এখনও বিক্রি হয়নি।’
তবে মাস শেষ হলে অনেকে বেতন পাবেন। তখন কাস্টমাররা আসবে। কারণ ফুটপাতে গরীব মানুষেরাই কিনতে আসে বলে মনে করেন তিনি।








