বোন কিম ইয়ো জং-কে (৩০) ওয়ার্কাস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করার মাধ্যমে ক্ষমতায় পরিবারের অবস্থান আরও সুসংহত করলেন নর্থ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে পদোন্নতি দিয়ে নর্থ কোরিয়ার সরকারে বড় রদবদল এনেছেন কিম।
মঙ্গলবার ক্ষমতাসীন কোরিয়ান ওয়ার্কাস পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে পিয়োংইয়ং-য়ে এক কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট কিম এই ঘোষণা দেন।
প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দিয়ে বোনকে যেনো আবারও সুদৃষ্টিতে আনলেন কিম। দুই বছর আগে প্রেসিডেন্টের প্রপাগান্ডা চিফের পদ থেকে ইয়ো জং-কে সরিয়ে দিয়া হয়েছিলো। দেশজুড়ে র্যালির সময় নিরাপত্তাজনিত গুরুতর ভুলের কারণে বোনকে বরখাস্ত করেছিলেন কিম।
সেই সময়ের এক প্রতিষ্ঠানে সফরের সময় অতি-উৎসাহী এক মিউজিসিয়ান প্রেসিডেন্ট কিমের মুখে গিটার দিয়ে আঘাতই করে ফেলছিলো। অপর এক ঘটনায় একটি কনসার্টে এক ব্যক্তির ধাক্কারও শিকার হতে হয়েছিলো প্রেসিডেন্টকে।
কেন্দ্রীয় কমিটির বিকল্প সদস্য হিসেবে নতুন দায়িত্ব শুরু করবেন কিম ইউ জং, প্রধান সিদ্ধান্ত প্রণয়নকারী এই পর্ষদের সভাপতি প্রেসিডেন্ট কিম। এর মাধ্যমে ১১ বিকল্প সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি পলিটব্যুরো’র একজন হলেন ইউ জং।

এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ মাইকেল ম্যাডেন বলেন, ইয়ো জংকে নেতৃত্বে আনার মাধ্যমে রাষ্ট্রে কিম পরিবারের কর্তৃত্ব আরও পোক্ত হলো।
ইয়ো-জং তার ভাই জং-উনের সঙ্গেই ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি দেশে ফিরে কিম ইল-সং মিলিটারি ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়েছেন।

জাতিসংঘে নর্থ কোরিয়ার প্রতিনিধি রি ইয়ং হো যিনি সাধারণ সভায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘প্রেসিডেন্ট ইভিল’ বলে অভিহিত করেছিলেন তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের একটি পূর্ণাঙ্গ ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য করা হয়েছে।
২০১৫ সালে পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্ট যথাযথভাবে পরিচালনা করতে পারেননি বলে শোয়ে রিয়ং-ও কিমের বিরাগভাজন হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছিলো। কিন্তু নতুন এই সিদ্ধান্তে তা ভ্রান্ত বলেই প্রতীয়মান।

নর্থ কোরিয়ার রকেট প্রোগ্রামের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ তিন ব্যক্তির দুইজন কিম জং সিক এবং রি পিয়োং চোলেরও পদোন্নতি হয়েছে। দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রের শক্তি বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন কিম। কিম জানিয়েছেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হুমকির বিরুদ্ধে নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কোরিয়ান উপকূল এবং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
আবার একটি মিসাইল পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে কিম, এমন জোরালো গুঞ্জনও রয়েছে। সম্প্রতি পিয়োংইয়ং সফর শেষে মস্কোতে ফেরা রাশিয়ার আইনপ্রণেতা এন্তন মোরোজোভ জানান, নর্থ কোরিয়া তাকে পরীক্ষার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি এমন হিসাবও দেখিয়েছে যা প্রমাণ করে সেই অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানতে সক্ষম।
এন্তন মোরোজোভ জানান, তাকে এমনটিও জানানো হয়েছে মিসাইলে স্থাপনে সক্ষম নিউক্লিয়ার ওয়ারহ্যাডও নর্থ কোরিয়ার কাছে আছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তা মাটিতে অক্ষতভাবে ফিরিয়ে আনাও সম্ভব।
নর্থ কোরিয়ার মিসাইল পরীক্ষার সম্ভাব্য দিন বলে ধারণা করা হচ্ছে সোমবারকে। পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে সামনে রেখে এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রিয় ছুটির দিন ‘কলম্বাস ডে’তেই এই পরীক্ষা হতে পারে। সর্বোচ্চ মিডিয়া কাভারেজের জন্য আমেরিকার ছুটিকেই প্রাধান্য দেয় নর্থ কোরিয়া।







