আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সম্পন্ন বাংলাদেশী ডিজাইনার ও মডেল বিবি রাসেল এবার বেগম রোকেয়া পদক ২০১৫ পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেছেন তিনি।
কর্মজীবনে বিবি রাসেল অনেক পুরস্কার পেলেও রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নারীদের জন্য সংগ্রাম করা বেগম রোকেয়ার নামে ওই পদক পেয়ে তিনি উজ্জীবিত। তার মা ঢাকার আর বাবা রংপুরের বাসিন্দা হওয়ায় বিষয়টি তার জন্য একটু অন্যরকম।
পদক পাওয়ার পর অনুভূতির কথা বলে বিবি রাসেল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আমি খুব খুশি বেগম রোকেয়া পদক পেয়ে। কারণ সারাজীবন যে মানুষটি নারীদের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন তার নামে এ সম্মানটি আমার পরবর্তী সকল কাজের চলার শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
নিজের ছেলেবেলা আর কর্ম চিন্তা বিষয়ে বিবি রাসেল বলেন, ছোট বেলায় বাবার কাছে তার অনেক গল্প শুনতাম। তার সংগ্রামী জীবনের কথা শুনেই বড় হয়েছি। বড় হয়ে তাকেই অনুসরণ করে দেশ ও দেশের নারীদের জন্য কিছু করতে চেয়েছি। আর সেই চাওয়া আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিলো এ পদকটি।
তিনি আরও বলেন, আমি কিন্তু এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছি। পড়াশোনা করেছি বাংলা মিডিয়াম থেকে। জীবনে যা কিছু করেছি সবকিছুই পজিটিভ ভাবে করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে মডেলিং করছি না। দেশে ফিরেছি দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে। আমার কাজ শুধু ডিজাইন করা না। দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কিছু ভালো কাজ করা আমার কাজ। সেই কাজটি করে যাচ্ছি।
দেশে নারীদের জয়জয়কার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী এবং বিরোধীদলের দলের দু’জন নারী নেত্রী, বিশ্বের এমন কোথাও এর দৃষ্টান্ত দেখাতে পারবে না যা আমরা দেখিয়েছি। এখন শুধু আমাদের দরকার একটু পজিটিভ হওয়া। কারণ আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দেশে যতোই ভালো কিছু হোক না কোনো সেগুলো না দেখে বা না বলে খারাপ দিকগুলোতে ছুটতে থাকি। খারাপ দিকগুলো ফেলে দিয়ে যদি ভালো দিকগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারি তাহলে দেশ একদিন আরো এগিয়ে যাবে।
তাহলেই বিশ্বের কাছে এমন আরো অনেক দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ রাখতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে নিজের কাজ নিয়ে কতদূর যেতে চান এমন প্রশ্নে বিবি রাসেল বলেন, যে কাজের জন্য আমাকে পদক দেওয়া হলো এটাই আমার কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
যে কাজটি করছি সেটিই খুব ভালোভাবে করে যেতে চাই। পোশাকশিল্পের উন্নয়ন, তাঁতশিল্প ও তাঁতিদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গ্রামীন পর্যায়ে কাজ করতে চাই।
বর্ণিল কর্মজীবনে বিবি অর্জন করেছেন দেশি-বিদেশি অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ১৯৯৭ সালে ‘এল ম্যাগাজিন’-এর বিবেচনায় বর্ষসেরা নারী হিসেবে মনোনীত হন বিবি রাসেল। ১৯৯৯ সালে লন্ডন আর্ট ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ পান বিবি রাসেল। একই বছর ইউনেসকো তাঁকে ‘ডিজাইনার ফর ডেভেলপমেন্ট’ খেতাব দেয়। ২০০১ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘শান্তির শিল্পী’ পদক দেয়। ২০০৪ সালে স্পেনের জাতিসংঘ সমিতির শান্তি পুরস্কার পান বিবি। ২০০৮ সালে ইউএনএইডস তাঁকে শুভেচ্ছাদূত মনোনীত করে। ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়াারি স্পেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘দ্য ক্রস অব অফিসার অব দি অর্ডার অব কুইন ইসাবেলা’, নিউ ইয়র্ক থিওলজিক্যাল সেমিনারি থেকে ‘আরবান অ্যাঞ্জেল অ্যাওয়ার্ড-২০১১’ এবং জার্মানির ভিশন সামিট থেকে ‘ভিশন অ্যাওয়ার্ড-২০১১’ পান বিবি রাসেল।







