বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন একটা সময় ছিল টেস্ট বা ওয়ানডে ম্যাচ যাই হোক না কেন বৃষ্টির কবলে পড়লে স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতো সবাই। তবে এখন দিন বদলেছে। যেকোনো ম্যাচে বৃষ্টি মানেই জয় হাতছাড়া হবার ভয়। এই পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯১ টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে ৭টিতে জয় পেয়েছে । ৭১ টি হারের পাশাপাশি ড্র করেছে ১৩ টি ম্যাচে। ছয়টি ম্যাচে পুরো পাঁচদিন খেলে ড্র করে টিম টাইগাররা। বাকি ৭ টি ম্যাচ ড্র হয় বৃষ্টির কারণে।যার ছয়টিই ঘরের মাঠে।
২০০০ সালে টেস্ট খেলার যোগত্যা অর্জনের পরের বছরই টেস্টে ড্রয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ। যদিও ড্র হওয়ার ক্ষেত্রে অবদান ছিল বৃষ্টির। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ম্যাচে টানা বৃষ্টিতে চতুর্থ ও পঞ্চম দিন মাঠে একটি বলও গড়ায়নি।
২০০৪ সালে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বৃষ্টির হানায় ড্র মেনে নিতে হয় হাবিবুল বাশার-আশরাফুলদের। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির জন্য প্রথম দু’দিন ও চতুর্থ দিন খেলা বন্ধ ছিলো।
২০০৭ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামে টিম টাইগার্স। ওই টেস্টে তৃতীয় দিনে আঘাত হানে বৃষ্টি। ২৫০ রানের জয়ের টার্গেটে পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে টাইগাররা। জাভেদ ওমর বেলিমের হার না মানা ৫২ রানের সুবাদে দুই উইকেটে ১০৪ রান করার পর ড্র মেনে নেয় দু’দল।
২০০৮ সালে মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দু’দলের খেলোয়াড়দের টানা তিনদিন অলস সময় কাটে হোটেলে। ভারী বর্ষণ আর বৃষ্টিতে পঞ্চম দিনে ড্র মেনে নেয় সফরকারী ও স্বাগতিকরা। ২০১১ সালে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুর্দান্ত সূচনার পরও দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ায় ম্যাচ ড্র হয়।ওই টেস্টে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন ইলিয়াস সানি।
২০১৩ সালে চট্টগ্রাম টেস্টের পঞ্চম দিনে বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ ড্র হয়। ওই টেস্টে ১৮১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন মুমিনুল হক। এছাড়াও টেস্টে ১০১ রান ও দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সোহাগ গাজী।
সর্বশেষ বৃষ্টির কারণে ড্র হলো নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্টটি। বৃষ্টির জন্য প্রথম দিনে মাত্র ৫৩ ওভার খেলা হয়। দ্বিতীয় দিনে তুমুল বর্ষণে বল মাঠে গড়ায়নি। তৃতীয় দিনে মাঠে খেলা হলেও বেশ কয়েকবার বৃষ্টি হানা দেয়। এক পর্যায়ে দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
চতুর্থ দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৩০ ওভার এক বল। বৃষ্টির প্রতাপ বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চম দিনে প্রথম সেশনে খেলা হয়নি। পরের সেশনে বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা। শেষ বিকেলে ভারতীয় দলের কাপ্তান বিরাট কোহলি আর টিম টাইগার্স দলপতি মুশফিকুর রহিম ড্র মেনে নেয়।
তবে ফতুল্লা টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবালের কাছে। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে তিনি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তামিমের রান ৪০ টেস্টে ৩ হাজার ৩৯। তামিম ছাড়িয়ে গেছেন প্রায় ১৪ বছর ধরে টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড আগলে রাখা হাবিবুল বাশারকে। তার সংগ্রহ ছিলো ৫০ টেস্টে ৩ হাজার ২৬ রান।






