বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার একমাত্র টেস্টটি ড্র হয়েছে।ম্যাচের পাঁচদিনই দফায় দফায় বৃষ্টির হানায় বারবার বন্ধ হয়েছে খেলা। শেষ দিন ভারতের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে করা ৪৬২ রানের জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৫৬ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ থাকলেও সেটা না করে বাংলাদেশকে ফলো অন করানোর সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলি। ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ বিনা উইকেটে ২৩ তোলার পর ড্র মেনে নেন দুই অধিনায়ক। তামিম ১৬ এবং ইমরুল কায়েস ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
বৃষ্টির জন্য প্রথম দিনে মাত্র ৫৩ ওভার খেলা হয়। দ্বিতীয় দিনে তুমুল বর্ষণে বল মাঠে গড়ায়নি। তৃতীয় দিনে মাঠে খেলা হলেও বেশ কয়েকবার বৃষ্টি হানা দেয়। এক পর্যায়ে দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। চতুর্থ দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৩০ ওভার এক বল।
বৃষ্টির প্রতাপ আরো বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চম দিনে প্রথম সেশনে খেলা হয়নি। পরের সেশনে বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে টাইগাররা। শেষ বিকেলে ভারতীয় দলের কাপ্তান বিরাট কোহলি আর টিম টাইগার্স দলপতি মুশফিকুর রহিম ড্র মেনে নেন।
পঞ্চম দিনের শুরুতে সাকিব আল হাসান ৯, ইমরুল কায়েস ৭২ এবং সৌম্য সরকার ৩৭, শুভাগত হোম ৯ রান করে আউট হলে দলের হাল ধরেন লিটন। খেলছিলেনও ভালো। তবে ম্যাচের সবচেয়ে সফল বোলার রবিচন্দন অশ্বিনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কোহলির হাতে ধরা পড়েন তিনি। ফেরার আগে অভিষেক ম্যাচে ৪৪ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন লিটন। ৪৫ বলে খেলা লিটনের ৪৪ রানের ইনিংসে ছিল দৃষ্টিনন্দন ৭টি চারের মার।
লিটন ফেরার পর বাংলাদেশের ইনিংস আর বেশি লম্বা হয়নি। মোহাম্মদ শহিদ ৬ এবং জুবায়ের হোসেন হিসাবের খাতা খোলার আগেই রান আউট হলে সমাপ্তি ঘটে স্বাগতিক ইনিংসে। ৫ উইকেট নিয়ে ভারতের পক্ষে সফল বোলার রবিচন্দন অশ্বিন। ৩ উইকেট নিয়েছেন হরভজন সিং। প্রথম ইনিংসে ১৭৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার সুবাধে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় ওপেনার শিখর ধাওয়ান।
ফতুল্লা টেস্ট স্মরণীয় হয়ে থাকবে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল, অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান লিটন কুমার দাসের কাছে। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে এখন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। এই টেস্টেই দেশের মাটিতে উইকেট নেওয়ার সেঞ্চুরি করেছেন সাকিব। আর প্রথম ইনিংসে সুযোগ পেয়ে ৪৪ রান করে অভিষেক ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন লিটন দাস।






