নতুন করে জেগে উঠছে মৃতপ্রায় বুড়িগঙ্গা নদী। ধীরে ধীরে যেন নিজের হারানো চেহারা ফিরে পাচ্ছে রাজধানী ঢাকার প্রাণ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এ নদী। চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত একটি সরেজমিন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বুড়িগঙ্গার এ রূপান্তরের চিত্র। গত এপ্রিলের শুরুতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ট্যানারিগুলো বন্ধের পর দেখা গেছে বিষাক্ত বর্জ্যের কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত পানির পরিবর্তে নদীতে ফিরেছে স্বচ্ছ পানির স্রোতধারা, নদী তীরবর্তী এলাকায় বইছে নির্মল বাতাস। পানিতে যেমন আছে শ্যাওলা, ঠিক তেমনই পাওয়া যাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ। আর এতেই অভিভূত রাজধানীবাসী। নদী তীরে ভ্রমণ পিপাসু সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী মৎস্য ও জলজ প্রাণীর জীবনধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতি লিটারে ৫ মিলিগ্রাম বা এর ওপরে থাকা প্রয়োজন। গত বছর এই সময়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষায় বুড়িগঙ্গার প্রতি লিটার পানিতে দূষণের মাত্রা ছিল শূন্য দশমিক ৩৮ মিলিগ্রাম। অবশ্য কোথাও কোথাও আবার এর পরিমাণ ছিল আরও খারাপ। তাই বুড়িগঙ্গার পানিতে মাছ কিংবা অন্য কোন জলজ জীবের অস্তিত্ব ছিল না বললেই চলে। সে প্রেক্ষাপটে সেইসময় বুড়িগঙ্গাকে মৃত নদীর তালিকাভুক্ত করে বিশ্বব্যাংক। তবে এখন সেই অবস্থা পাল্টে যাচ্ছে, পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার কথা বলছেন মৎস্যজীবীরা। যা গত প্রায় ২০ বছরেও দেখা যায়নি। এসব কারণে আশাবাদী পরিবেশবিদরাও। তারা বলছেন, এই অবস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি নদী দূষণ বন্ধে আরো উদ্যোগ নিতে হবে। ট্যানারি বর্জ্য বন্ধ হলে অন্য শিল্পবর্জ্য এখনো বুড়িগঙ্গাকে দূষণ করে চলেছে, সেগুলো বন্ধ করা গেলে দ্রুতই প্রাকৃতিক নির্মল পরিবেশ ফিরে পাবে বুড়িগঙ্গা। আমরা মনেকরি, এই অবস্থা ধরে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি দেশের অন্য নদীগুলোর দূষণরোধেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। রাজধানী ঢাকাকে বাঁচাতে যেমন বুড়িগঙ্গাকে বাঁচাতে হবে; তেমনি পুরো দেশকে বাঁচাতে অন্য নদীগুলোকেও বাঁচাতে হবে। তাই নদী দূষণ নিয়ে আর কোনো অযত্ন ও অবহেলা যেনো না হয়, সেদিকে কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের আশাবাদ।








