স্পিন উইকেট বানিয়ে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু স্পিন আক্রমণ ও মোকাবেলায় যারা সিদ্ধহস্ত সেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কেন একই ফর্মুলা? বড় হারের পর প্রশ্নটা যখন উচ্চকিত, জানা গেল বাংলাদেশ দলই চেয়েছিল টার্নিং উইকেটে খেলতে। যা অনেকটা বাজি ধরার মতোই। লক্ষ্যে চট্টগ্রামের মতো ড্র নয়, মিরপুরে ফলের প্রত্যাশা ছিল।
প্রত্যাশা মতোই উইকেট মিলেছে। শের-ই-বাংলার ২২ গজে ধরেছে ঘূর্ণি। শুধু ফলটাই উল্টো দিকে গেছে। কুপোকাত হয়েছে বাংলাদেশই। স্পিন উইকেট বানিয়ে ফাঁদে পড়ার ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার চরম দৃষ্টান্ত দেখিয়ে স্বাগতিকদের হার ২১৫ রানের বিশাল ব্যবধানে। ত্রিদেশীয় সিরিজের পর টেস্ট সিরিজও গেল হাথুরুসিংহের শিষ্যদের কাছে।
চেনা মাঠ, পছন্দের উইকেট, দলও আত্মবিশ্বাসী; তাহলে ভুলটা হল কোথায়? ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে আসলে অতি-আত্মবিশ্বাসের ফলেই মিলেছে করুণ পরিণতি!
‘ক্রিকেট খেলা তো একটা বাজির মতো। আমরা জানতাম ওদের স্পিন ডিপার্টমেন্ট খুব ভাল। আমাদের স্পিন ডিপার্টমেন্টও ভাল করতে শুরু করেছিল। জানতাম আমাদের ব্যাটসম্যানদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হবে। কিন্তু আমরা নিজেদের ব্যাটসম্যানদের উপর ভরসা রেখেছিলাম। দুর্ভাগ্যবশত ব্যাটসম্যানরা ভাল পারফর্ম করতে পারেনি।’
চট্টগ্রাম টেস্টে ২০০ রানে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচ বাঁচিয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। সেই আত্মবিশ্বাস ঝুঁকি নিতে জ্বালানি যুগিয়েছে ঢাকা টেস্টের আগে। যদিও মাঠে খেলা গড়াতেই সব জলাঞ্জলি। চট্টগ্রামের আত্মবিশ্বাসের ছিটেফোটারও দেখা মেলেনি ঢাকায়। মাহমুদউল্লাহ অবশ্য মনে করেন সবই ঠিক ছিল, ঘাটতি ছিল কেবল প্রয়োগে।
‘প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কা সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। ওরা বিশ্বাসও করছিল জিততে পারবে। অন্যদিকে আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা ম্যাচ বাঁচাতে পারব। হয়েছেও তাই। ওই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আমরা এসেছি। জানতাম মিরপুরে ফল হবে, স্পিন উইকেট হবে। আমাদের ব্যাটসম্যানদের সক্ষমতাও ছিল; শুধু প্রয়োগ করতে পারিনি।’








