বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একমাত্র বিদেশী বীরপ্রতীক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডের জীবনীভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ‘বীরপ্রতীক ওডারল্যান্ড’ এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়েছে । বুধবার বিকেলে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সেগুনবাগিচার হল রুমে প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
অনুষ্ঠান শুরু হয় অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, জামার্নী ও বাংলাদেশে ধারণকৃত ৪৫ মিনিটের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে। হল ভর্তি দর্শক উপভোগ করেন একাত্তরে বাংলাদেশের মহান বন্ধু বীরপ্রতিক উইলিয়াম এ এস ওডারল্যান্ডের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভুমিকার প্রামাণ্য দলিল এবং জীবনের নানা অজানা কথা।
এটি পরিচালনা করেছেন মাহবুবুর রহমান বাবু এবং প্রযোজনা করেছে পি আর প্ল্যাসিড বাংলাদেশ এবং হরিইকে নাওয়া জাপান এবং প্রমাণ্যচিত্রটি নির্মাণে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন কবি সাংবাদিক এবং নির্মাতা রাজু আলীম।
প্রিমিয়ার শো’র পরে নিজের বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ওডারল্যান্ডের স্মৃতির প্রতি গভির শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ওডারল্যান্ডের বাংলাদেশে জঙ্গীদের আস্তানা হতে পারে না।’এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান হাসানুর হক ইনু। 
পরামর্শক হিসেবে তথ্যচিত্রটি নির্মাণে অগ্রণী ভুমিকা রেখেছেন কবি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা রাজু আলীম। বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি সেই নতুন প্রজন্মের কাছে ওডারল্যান্ডকে পৌছে দিতে না পারলে তা অন্যায় হবে। সেই তাগিদ থেকেই এই তথ্যচিত্র নির্মাণে সব ধরণের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফীন সিদ্দিক। তিনি বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টে জাতীর পিতাকে নির্মমভাবে হত্যাকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ওডারল্যান্ড এর মত বন্ধুদের সব অবদান মুছে ফেলতে চেয়েছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক হাইকমিশনার লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব:) বলেন, ‘এই ডকু ফিল্ম নির্মাণে সহযোগিতা করতে পেরে আমি গর্বিত। ওডারল্যান্ডকে তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌছে দিতে এর চেয়ে ভালো উদ্যোগ আর কিছুই হতে পারে না। 
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, ‘নতুন প্রজন্ম যে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে এই তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেছে।’
বিএফইউজে এর সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগষ্টে জাতীর পিতাকে হত্যা করা না হলে অনেক আগেই আমরা ওডারল্যান্ডের মত বিদেশী বন্ধুদের সম্মাননা জানাতে পারতাম।’









