পুঠিয়ার বিড়ালদহ বাজারের লোহার ব্রিজের যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে রাজশাহীর সবচেয়ে বড় গেরিলা যুদ্ধ। রাজশাহীতে প্রবেশের আগে কমপক্ষে ২ হাজার পাকিস্তানি সৈন্যকে প্রতিহত করে মাত্র ২’শ গেরিলা যোদ্ধা। ৮ ঘন্টা সম্মুখ যুদ্ধের পর পিছু হাটতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি হানাদাররা। মারা যায় ৬শ’রও বেশি পাকিস্তানি সৈন্য।
একাত্তরের ১৪ এপ্রিল নগরবাড়ি ঘাট হয়ে পাকিস্তানী সৈন্য নিয়ে ২ থেকে ৩‘শ টি ট্রাক রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয় । এ খবর শোনার পর ওই এলাকার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে ২শ মুক্তিযোদ্ধা প্রতিরোধের পরিকল্পনা করেন। অবস্থান নেন রাজশাহী শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়ার বিড়ালদহের লোহার ব্রিজে। দুপুর থেকে শুরু হয়ে গেরিলা যুদ্ধ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিড়ালদহ হয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাজশাহীতে প্রবেশ করতে না পারলেও ২ দিন পর সামরিক শক্তি বাড়িয়ে রাজশাহী শহরে প্রবেশ করে। বিড়ালদহের যে এলাকায় গেরিলারা পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রতিহত করেছিল সে এলাকার কয়েকশ মানুষকে হত্যা করে হানাদাররা। গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। এখনও বিড়ালদহ এলাকার বাড়ির দেয়ালে রয়েছে গুলির চিহ্ন।
লোহার ব্রিজে গেরিলাযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছিলেন রাজাকারদের সহায়তায় তাদের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করে পাকিস্তানি সৈন্যরা।
১৪ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে ঘাঁটি করে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী। টর্চার ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার হয় জোহা হল। এছাড়া রাজশাহীর পদ্মার চরে পাকিস্তানি সৈন্যরা গণহত্যা চালিয়েছিলো।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:
https://www.youtube.com/watch?v=hrDLoi_AR_A&feature=youtu.be








