মেয়েদের ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র হ্যাটট্রিকের কীর্তি রুমানা আহমেদের। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আয়ারল্যান্ড সফরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে পার্থক্য গড়েন এ লেগস্পিনার। দুবছর পর আবারও আয়ারল্যান্ড যাচ্ছে টিম টাইগ্রেস। অলরাউন্ডার রুমানার লক্ষ্য আগের কীর্তি ছাপিয়ে দলের জন্য আরও ভালো কিছু করার। জানালেন, বিসিবি এখন মেয়েদের দিকে অন্যভাবেই তাকাচ্ছে।
‘আসলে আমরা(নারী ক্রিকেট) শুরু করেছি ২০০৭ সাল থেকে। আমাদের ১০-১১ বছর হয়ে গেছে। শুরু হওয়ার পর থেকে সবাই জানে একটু অবহেলার উপরেই ছিলাম আমরা! তারপরও নিজেদের পরিশ্রম দিয়ে এখানে এসেছি। সাফল্যের পেছনে ছুটতাম আমরা। এটা(এশিয়া কাপ) বিরাট অর্জন। এই অর্জনের পর বোর্ড আমাদের দিকে অন্যভাবে তাকাচ্ছে। বেতন বেড়ে গেল। হঠাৎ করে প্রধানমন্ত্রী ডাকল। সবকিছুতেই পরিবর্তন আসছে।’
‘এখন স্বপ্ন আরও বড়। আশা করি ৪-৫টা উইকেট পাবো। লিডিং স্কোরার হবো। ওটা(আয়ারল্যান্ডে হ্যাটট্রিক) আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে। ভালো করার তাগিদ বাড়ে।’ -স্বপ্নটা এভাবেই চওড়া করছেন রুমানা।
স্বপ্নের এশিয়া কাপ জয়ে ব্যাট-বলে রুমানার ছিল অনন্য অবদান। ফাইনাল সেরার পাশাপাশি অর্জনের খাতায় সেরা বোলারের পুরস্কারও।
এশিয়া কাপে যে সাফল্য এসেছে সেটি ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ থাকছে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে। ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও কন্ডিশন জয় করে সেরাটা দেয়ার চ্যালেঞ্জকে আরও বড় করে দিয়েছে। সিরিজ শেষ হতেই সালমা-রুমানাদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে নেমে যেতে হবে নেদারল্যান্ডসে।
আইরিশ মেয়েদের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে শনিবার দিবাগত রাতে রওনা হবে টিম টাইগ্রেস। তার আগে রুমানা শোনালেন বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়া নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কথা, ‘এখন আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ খেলা। বিশ্বকাপ ঘিরেই আমাদের সব প্রস্তুতি চলছে। যেহেতু আমরা বাছাইপর্ব খেলছি। ভালমতো আমাদের কাজটা করবে এবং বিশ্বকাপের লক্ষ্যে পৌঁছাব।’

কদিন আগেও মেয়েদের ক্রিকেটের খোঁজ-খবর নেয়ার মতো মানুষের খুব অভাব ছিল! উইমেন্স উইং নিয়ে বিসিবিও ছিল উদাসীন! ছিল অবেহেলাও। এশিয়া সেরার মুকুট অর্জনের পর বদলেছে প্রেক্ষাপট। দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে ক্রিকেটারদেরও। এই পরিবর্তন লাল-সবুজদের নারী ক্রিকেটকে অনেকদূর এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন ওয়ানডে অধিনায়ক রুমানা।
‘এটা কিন্তু শুধু আমাদের জন্য না, পুরো উইমেন্স উইয়ের জন্য কাজে দেবে। এই সাফল্য সামনের দিনের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবে।’
‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমাদের মধ্যে যে জিনিসটা আসছে, আত্মবিশ্বাস তো আছেই, দায়িত্বও বেড়ে গেছে। পরবর্তীতে ভালো কিছু করতে হবে। ভালো যেহেতু করছি, সেটা ধরে রাখতে হবে। দায়িত্বজ্ঞানটা বেড়ে গেছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস দিন দিন বাড়ছে। পরপর ম্যাচ খেলাও বাড়ছে। এশিয়া কাপের পর আত্মবিশ্বাস খুব ভালো আছে। আশা করি এটা ধরে রাখতে পারবো পরবর্তী ট্যুরগুলোতে।’ -যোগ করেন রুমানা।
রুমানা মনে করেন জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটার যারা আছেন, তারা বড়জোর আর ৪-৫ বছর খেলবেন। সামনে হাল ধরতে হবে নতুনদের। তাদের আগমনের আগেই বিশ্বকাপের মঞ্চে সাফল্য এনে ভবিষ্যৎ ক্রিকেটারদের পথ মসৃণ করতে চান রুমানা।








