শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশজুড়ে পালাবদলের হাওয়া বইলেও এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সংস্কার নিয়ে। বৈধতার ভিত্তিতে কীভাবে বোর্ডে পরিবর্তন আনা যেতে পারে সেটি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিসিবি পরিচালক ও আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠু জানালেন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমাধান রয়েছে বোর্ডের গঠনতন্ত্রেই। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে দুটি পথের কথা জানান তিনি।
সভাপতির পদ থেকে নাজমুল হাসান পাপন সরে যেতে সম্মত হলেও শনিবার পর্যন্ত পদত্যাগপত্র জমা পড়েনি বিসিবিতে। ঝুলে আছে বিসিবির ভবিষ্যতও। ২৫ সদস্যের পরিচালনা বোর্ডের অধিকাংশই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। দেশে যারা আছেন তারা একযোগে পদত্যাগে রাজি হলেও সরকারের নির্দেশনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
আইসিসির বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, কোনো দেশের বোর্ডে পরিবর্তন আনতে হবে সেই বোর্ডের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। বিসিবিতে সহ-সভাপতির পদ থাকলে এই সংকটে পড়তে হতো না বলে মনে করেন মিঠু। বর্তমান স্থবিরতা কাটাতে একাধিক পথের কথা জানালেন তিনি।
‘১৩ জন পরিচালক এখন নেই। রিজাইন করুক বা না করুক এরা তো নাই। পর পর তিনটা বোর্ড মিটিং করতে পারলে কিন্তু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এগুলো বাদ হয়ে যাবে। যা করার বিসিবির গঠনতন্ত্রের মধ্যে থেকেই করা যায়। অনেকে সত্যি কথাটা বলছে না। আইসিসি নিষিদ্ধ করে দেবে, আইসিসির নিয়ম আছে, এই সেই বলা হচ্ছে। আইসিসির নিয়ম হচ্ছে তোমার বোর্ডের গঠনতন্ত্র তুমি মেনে চলবা। মিসকোড করছে অনেকে। গঠনতন্ত্র মেনে যদি সবকিছুও পরিবর্তন করা হয় তাহলেও কিন্তু কোনো ভয় নেই। ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র মেনে চলতে হবে এই হলো কাহিনী। পাকিস্তানের গঠনতন্ত্রে আছে বোর্ড সভাপতি মনোনীত করবে সরকার। তার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সে ঠিক আছে। শ্রীলঙ্কা নিষিদ্ধ হয়েছিল কারণ গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কাজ করেছে।’
সহ-সভাপতির পদ না রাখা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই পরিচালক, ‘এরকম পরিস্থিতিতে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বা এক নম্বর ভাইস প্রেসিডেন্টের কাজ করার কথা। আমাদের তো ওটা ভায়োলেট করা হয়েছে। দুই-তিন বছর ধরে ওটা (সহ-সভাপতির পদ) খালি রাখা হয়েছে।’
`এই টার্মে কেন উনি (নাজমুল হাসান) করেন নাই উনি জানে। ভাইস প্রেসিডেন্ট যদি থাকত এখন কিন্তু মিটিং কল করতে পারত। যদি সিস্টেমের মধ্যে থাকতে চাই তাহলে আমাদের মধ্যে থেকে কাউকে ভাইস প্রেসিডেন্ট করে মিটিং কল করে তিনটা মিটিং করলে নির্বাচন করে আসা যায়। এটা সঠিক প্রক্রিয়া। আর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের যে দুটি কোটা আছে সেটা কিন্তু সরকার যে কোনো সময় পাল্টে দেয়ার এখতিয়ার রাখে।’
‘তাদেরকে (ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ) আমরা বলে আসছি কে থাকল বা না থাকল এটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার কথা হচ্ছে ক্রিকেট তো চলতে হবে। এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে ক্রিকেট বোর্ডের সামনে বিশ্বকাপ আছে। হবে কী হবে না আমরা জানি না। সামনে ভারত সফর আছে। পাকিস্তানে অলরেডি দল গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় দল আছে। সাউথ আফ্রিকা আসবে। এসব জরুরি কাজগুলোর জন্য দ্রুত সমাধান করতে হবে। তারপরও যদি প্রশ্ন থাকে আইসিসির কাছে লিখুক সরকার। এর মধ্যেই থাকতে হবে। সহজ হলো, দুইজনকে (পরিচালক) দিল উনারা (ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত)। তারা যাদের প্রেসিডেন্ট চায় প্রেসিডেন্ট করে তারপর বিরতি দিয়ে মিটিং করে আবার নির্বাচন করে আসবে। ক্রীড়া পরিষদের মনোনয়নে ঢুকলে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন হবে না। উনারা বোর্ড পরিচালক হয়ে গেলো। তারপর এখান থেকে কাকে চায় বা না চায়। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে এভাবে হতে পারে।’
বর্তমানে বিসিবি বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত দুজন জালাল ইউনুস ও আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ চাইলে তাদের প্রতিনিধির মধ্যেও পরিবর্তন আনতে পারবে, সেজন্য লাগবে না নির্বাচন প্রক্রিয়া। যদিও বিসিবির আগামী নির্বাচন হতে আরও এক বছর বাকি। এর আগে আপাতত বোর্ডের কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া পড়েছে চ্যালেঞ্জের মুখে।
আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, বিসিবি সভাপতিকে লিখিতভাবে বোর্ডকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে, যেটি পরে পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত হবে। কিন্তু সভা ডাকতে হবে বর্তমান সভাপতি নাজমুল হাসানকেই, যেটি তিনি বিদেশে থাকলেও পারবেন।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সভা ডেকে সেখানে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব সভাপতি তার অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো পরিচালকের ওপর ন্যস্ত করতে পারেন। অথবা সভাপতির অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিতদের কারও প্রস্তাবে যেকোনো একজন পরিচালক সভাপতিত্ব করতে পারেন।
কোনো বোর্ড পরিচালক দেশের বাইরে থাকলে সভায় জুমের মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারেন। বিসিবির সর্বশেষ সভাতেও একাধিক পরিচালক অনলাইনে যুক্ত থেকেছেন।







