চাকরি জীবনে প্রবেশের অাগে অনেকেরই একটা কমন প্রশ্ন থাকে – কোনদিকে যাবো? বিসিএস, ব্যাংক নাকি কর্পোরেট? বিসিএস-এ চাকরির নিশ্চয়তা অনেক বেশি, এইদিকে ভালোভাবে ফোকাস করা উচিত কিনা। এ বিষয়ে প্রথমেই বলি, চাকরির ক্ষেত্র কি শুধু এগুলোই? আর অন্য কিছু নেই?
দেখুন, পড়াশুনা শেষ করে জীবন চালাতে ও নিজে অন্যের জন্য কিছু করতে জীবিকা প্রয়োজন, এটাই তো! আবার কী! অনেকেই খুঁজে থাকেন নিশ্চয়তা। যদি তরুণ প্রজন্ম ৩০ বছর বয়সে শান্তি খুঁজতে থাকেন, তবে ঝুঁকি কারা নেবেন!!! তবে আমি বলছি, কোনো অনুপ্রেরণা আপনার কাজে আসবে না, যদি আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে আগ্রহী না হন। কয়েকটি বিষয় দেখে ও চিন্তা করে নিজের ক্যারিয়ার নির্বাচন করুন।
অনেকে টেক্সট করে বলেন, “আমি ১ম বর্ষে পড়ি। বিসিএস প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করতে চাই। ভার্সিটিতে এসেই বিসিএসের বই নিয়ে বসা!!! কেন ভাই? নিজের সাবজেক্টকে নিয়ে কী করবেন তাহলে? নিজের পড়ার বিষয়টা নিয়ে যদি ভালো করে লেগে থাকেন, দেখবেন ওই তীব্র আকাঙ্ক্ষাটাই আপনাকে ভাবতে শেখাবে যে ভবিষ্যতে আপনি আপনার ক্যারিয়ারকে কোন দিকে নিয়ে যাবেন।
আসলে আপনি আপনার মাথা খুলে রেখেছেন, আর কেউ এসে কিছু বীজ বপন করে দিয়েছে হয়তো, সেই পরগাছা নিয়েই আপনি এগিয়ে যাচ্ছেন। জীবনের শেষে এসে বুঝতে পারছেন কতটা ভুল করেছেন।
আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে বের হই, তখন একটা হুজুগে কথা শুনতাম। ওই সময় ছিল নাকি সিএসই, বিবিএ গ্র্যাজুয়েটদের! তাহলে ওই সময়টাতে যারা শিল্প-সাহিত্য নিয়ে কাজ করেছেন, তারা কি কোনো কিছু করতে পারেননি? অবশ্যই তারা কিছু করতে পেরেছেন বলেই তাদের সৃষ্টি আমাদের নতুন কিছু ভাবতে শেখায়। ভাই, সময় সবসময় আপনারই থাকবে যদি আপনি বুঝতে পারেন আপনি কী করতে চান, সেটা করার জন্য আপনি কতটুকু নিবেদিত এবং সেটাই আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা।
সরকারি চাকরিতে আসতে হলে আগে জেনে আসুন কেন আসবেন, উদ্যোক্তা হলে সেটা কী উদ্দেশ্য নিয়ে হবেন বা কর্পোরেট জবে গেলে ওইটার কোথায় নিজেকে দেখতে চান, সেটা ভাবুন। শুনুন, এক একটা কাজের মজা এক এক রকম। কোন মজাতে আপনি মজবেন তা আপনাকেই ভেবে নিতে হবে খুব ভালোভাবে।
তাই দয়া করে নিশ্চিত জীবনের আশায় বিসিএস দেবেন, এটা ভাববেন না। আর বিসিএস-ই সব এটা ভাবাও ঠিক না। এটাও একটা চাকরি, এখানেও অন্য সব চাকরির মতো সুবিধা, অসুবিধা সবই আছে। সব চাকরিই চ্যালেঞ্জিং। কোন চ্যালেঞ্জটা আপনি নেবেন, সেটাই বড় বিষয়। বিসিএস অবশ্যই অনেক আরাধ্য চাকরি আমাদের সবার জন্য। দেশের জনগণের সেবা করার বড় সুযোগ করে দেয় এই চাকরি। তাই এই চাকরিতে আসুন আকাঙ্ক্ষা থেকে, সেবার মানসিকতা থেকে। নিশ্চয়তা বা বাকি সবাই দিচ্ছে, এগুলো ভেবে নয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সন্তুষ্টি।
সম্ভবনা অফুরন্ত। এর ভেতর থেকে আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত। আপনার স্বপ্নগুলোর সাথে যেটা মিলে যায়, যেটার ভিতর আপনি আনন্দ খুঁজে পান, সেটাকেই ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিয়ে কাজে নেমে পড়ুন। ভাল কিছু করার সুযোগ সব জায়গাতে আছে। তা বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরি, ব্যাংক, কর্পোরেট বা উদ্যোক্তাসহ যে কোনো ক্ষেত্রেই হতে পারে।
তাই কোনো কিছু সাময়িকভাবে না হলে ভেঙ্গে পরবেন না কখনো। আপনার কষ্ট, পরিশ্রম, সততা আপনার মনের ইচ্ছাটা পূরণে সবসময় আপনাকে সাহস দিয়ে যাবে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করতে। শুধু আপনার ইচ্ছাটা দরকার, সাথে কোনো কিছু নিয়ে লেগে থাকার মানসিকতা। আসুন নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য দৌড়াই, অন্যকেও স্বপ্ন দেখাই, স্বপ্ন ছড়িয়ে দেই সবখানে।







