বিকেএসপি থেকে: চার বছর পর পরিবারের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের সুযোগ এসেছিল সৌম্য সরকারের সামনে। জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ভেন্যু খুলনা হওয়ায় ভেবে নিয়েছিলেন ম্যাচ শেষ করে এবার বাবা-মায়ের সঙ্গেই দেবেন প্রতিমা বিসর্জন। কিন্তু দশমীর দিনে পড়ে গেল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ। যে ম্যাচে তিনি আবার অধিনায়ক।
রাতের গাড়িতে খুলনা থেকে ঢাকা পৌঁছে তাই সকালেই মাঠে নেমে পড়েন বিসিবি একাদশের অধিনায়ক সৌম্য। বিকেএসপির ২২ গজে দশমীর দিনে এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পরে একইসঙ্গে নিজেকে আর দেশের ক্রিকেটকে দিয়েছেন দারুণ এক উপহার। দিয়েছে ঝলমলে এক সেঞ্চুরি।
শুক্রবার সৌম্য খেলেছেন ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস। দল পেয়েছে ৮ উইকেটের বড় জয়। পূজায় সাতক্ষীরা থাকতে না পারার আক্ষেপ মিটে গেছে অসাধারণ এই সেঞ্চুরিতে।
‘কিছু একটা ত্যাগ করে কিছু পাওয়া, এটা তো ভালো কিছু। হঠাৎ করে যখন বলেছে খেলতে হবে, তখন একটু খারাপ লেগেছে। ৪-৫ বছর পর পূজার ছুটি পেয়েছিলাম, সেটিও মিস! পরে আবার মনকে শক্ত করেছি যেহেতু খেলা লাগবেই ওটা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো। মনে হয়েছে খেলতে গেলেই ভালো হবে।’
ভাগ্যও বিশেষ দিনে সৌম্যর পাশে ছিল। নিজের ১ রানের মাথায় তুলে দিয়েছিলেন ক্যাচ। অনেক উপরে ওঠা বল তালুবন্দী করতে পারেননি মিডঅনে দাঁড়িয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের ফিল্ডার। পরে আর কোনো সুযোগই দেননি। সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়ে যান। ১১৪ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলেন, যেটি সাজানো ছিল ১৩টি চার ও একটি ছয়ের মারে।
১০৯ বলে সেঞ্চুরি পাওয়া সৌম্যর উদযাপন ছিল দেখার মতো। হেলমেট খুলে শূন্যে লাফিয়ে মাঠের চারদিকে ব্যাট ঘোরান। এত উচ্ছ্বাসের পেছনেও নাকি ভূমিকা রেখেছে বিশেষ দিন, ‘সেঞ্চুরি তো সবসময়ই সেঞ্চুরি। আর বিশেষ দিন বলে এই সেঞ্চুরিটাও আমার কাছে বিশেষ।’

বিকেএসপির হাওয়া বাতাসেই বেড়ে উঠেছেন সৌম্য। যে কারণে ঘরের ছেলেকে ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল বেশি। শুরু থেকেই দর্শকের কাছে পেয়েছেন দারুণ সমর্থন। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছেন ব্যাট হাতে ঝড় তুলে।
জাতীয় লিগেও ব্যাট হাতে দেখাচ্ছিলেন ধারাবাহিকতা। তারপরও পুরোপুরি ছন্দে ফিরেছেন বলে মনে করেন না সৌম্য, ‘ছন্দে আছি এমন না। রান করলে তো অবশ্যই সবার ভালো লাগে। তেমন কোনো চিন্তা করিনি। চেষ্টা করছি নিজেকে খুশি রাখার। অবশ্যই ভালো খেললে ভালো লাগে। চেষ্টা করেছি বেশি সময় ক্রিজে থেকে ব্যাটিং করার।’
জাতীয় লিগে চার দিনের ম্যাচ শেষ করেন বৃহস্পতিবার। খুলনা থেকে রাতে ঢাকায় ফিরে সকালেই নেমে পড়েন ৫০ ওভারের ম্যাচে। ম্যাচজুড়েই মাঠে ছিলেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। সৌম্যর ব্যাটিং দেখেছেন ড্রেসিংরুমে বসে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে দলের বাইরে থাকলেও সৌম্যর ফেরার অপেক্ষা যে দীর্ঘ হবে না তেমন ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন প্রধান নির্বাচক।
‘সৌম্য আমাদের চোখের আড়াল হয়নি। ও তো আমাদের ৩০ জনের পুলের মধ্যেই আছে। আমরা একটা প্রসেসের মধ্যে আছি। এই জিম্বাবুয়ে সিরিজের স্কোয়াডে আমাদের কিছু খেলোয়াড়কে দেখতে হচ্ছে। সৌম্য সরকারকে যদি দরকার হয়, সবসময় বলি দেশের জন্য কাউকে দরকার হলে তাকে সবসময় নেয়া হবে। এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এমন না যে, আমরা একটা প্লেয়ারকে বাদ দিয়ে দিয়েছি বলে ওকে আর ডাকা হবে না। ৩০ জন খেলোয়াড়ের পুলের মধ্যে আছে, যাকে যখন দরকার হবে, তখন তাকেই আমরা সুযোগ দিচ্ছি।’








