ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় চেলসি মালিক রোমান আব্রমোভিচের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে যুক্তরাজ্য সরকার। ক্লাব বিক্রির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আগেই দিয়েছেন এই রুশ ধনকুব। রাশিয়া ও ইউক্রেনের শান্তি আলোচনায় মধ্যস্ততাকারীর দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন তিনি। এর মাঝেই জানা গেল তার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার খবর।
বিষক্রিয়ায় রাশিয়ান ব্যবসায়ীর চোখ লাল হয়ে গিয়েছিল। একইসঙ্গে তার সারারাত চোখে ব্যথা ছিল এবং সেখান দিয়ে পানি ঝরছিল। শরীরের চামড়াও খসে পড়ছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের অন্তত দুই সিনিয়র সদস্যও বিষক্রিয়ার উপসর্গে ভুগছেন। ৩ মার্চের ঘটনার পর থেকে আব্রামোভিচ এবং ইউক্রেনীয় আলোচকদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। যাদের মধ্যে ইউক্রেনীয় এমপি রুস্তেম উমেরভ রয়েছেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার একটি গ্রুপ বেলিংক্যাট বলেছে, আব্রামোভিচ এবং আলোচকরা ‘রাসায়নিক অস্ত্রের বিষক্রিয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ উপসর্গের শিকার হয়েছেন। তাদের কেউই চকলেট এবং পানি ছাড়া আর কিছু খায়নি।
রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, তারা বিশ্বাস করেন এটি রাসায়নিক এজেন্টের ইচ্ছাকৃত প্রয়োগ ছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, যারা শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তাদের একটি সতর্কবার্তা পাঠাতে এমনটা করা হয়েছে। এটি প্রাণঘাতী ডোজ ছিল না, হুমকি দেয়া ছিল।
আব্রামোভিচের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, তিনি এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপর এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কথিত রাশিয়ান কট্টরপন্থীরা বিষপ্রয়োগ করেছিল, যারা আলোচনার মাঝে নাশকতা করতে চেয়েছিল।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলেছে, গোয়েন্দাদের মতে যাদের উপসর্গগুলো দেখা দিয়েছে তা ‘পরিবেশগত’ কারণে হয়েছে। বিষক্রিয়ার কারণে নয়।
তবে রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞ হামিশ ডি ব্রেটন-গর্ডন বিবিসিকে বলেন, পরিবেশগত কারণের সাথে এর কোনো সম্পর্ক থাকাটা একেবারেই অসম্ভব।
রাশিয়ান বিলিয়নিয়ার আব্রামোভিচ চলতি মাসের শুরুতে কয়েক দফা আলোচনার জন্য মস্কো এবং কিয়েভে মধ্যে ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে দেখা করেছিলেন বলে জানা গেছে।







