আগামী ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি টঙ্গীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সঙ্গে তাবলীগ জামায়াতের দু’পক্ষের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন দুই পক্ষ।
বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, শুরুতে দুই পক্ষের নেতারা আলাদা আলাদা ইজতেমা অনুষ্ঠানের তারিখ দিলেও পরে তারা সরকারের অনুরোধে একটি তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর জানুয়ারিতে দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবার জটিলতার কারণে এক তারিখেই তা অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবার একধাপেই ইজতেমা পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
নানা কারণে যে দূরত্ব নেতাদের মাঝে তৈরি হয়েছিলো এক সঙ্গে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তা কেটে যাবে বলে মনে করছেন তাবলিক নেতারা।
নেতারা বলছেন, এবারের ইজতেমায় বিদেশী মেহমানরা কি সংখ্যায় আসবেন তা নির্ভর করছে বিবদমান দুই পক্ষ পরস্পরকে কতটুকু ছাড় দিবে তার উপর।
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্ব ইজতেমায় একসাথে যোগ দেয়ার ঘোষণা দেয় তাবলীগ জামায়াতের দু’পক্ষ। উভয় পক্ষের নেতাদের বৈঠকে ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।বৈঠকে শেষে বলা হয়, তাদের মতবিরোধের অবসান হয়েছে এবং দু’পক্ষ একসাথে ইজতেমা করবে।
এর আগে ২১ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুস মোল্লা। ওই রিট আবেদনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিন জনকে বিবাদী করা হয়।
তাবলিগ জামাতের প্রধান মওলানা সা’দ কান্ধলভীর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা দুইপক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে ঘটনা শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে গড়ায়।
এই বিবাদের কারণে গত বছর ইজতেমায় এসে আরেকপক্ষের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাবলিগ জামাতের বিশ্ব মারকায বা দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাযের আমির মওলানা সা’দ। দিনভর বিক্ষোভের মধ্যে তাকে শেষ পর্যন্ত ভারতে চলে যেতে হয়।
এ বছর নিজামুদ্দীন মার্কাজপন্থী মাওলানা সাদের অনূসারীরা ১১, ১২, ও ১৩ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করেন। এর বিরোধিতা করে জানুয়ারির ১৮, ১৯ ও ২০ ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করে হেফাজতপন্থী মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা।
গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে এ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষও হয়। সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও শতাধিক আহত হন।








