মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেকটাই এগিয়ে আছেন প্রতিযোগী অন্যান্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের তুলনায়।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে চলমান তুমুল আলোচনা-সমালোচনা যেনো তাকে আরো বিখ্যাত করে তুলছে, ঠেলে দিচ্ছে প্রেসিডেন্টের আসনটির দিকে।
ট্রাম্প যদি সত্যিই রিপাবলিকান দল থেকে প্রার্থী হয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বনে যান, তবে তা হবে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দশটি ঘটনার একটি। এমনটাই মনে করছে ব্রিটিশ গবেষণা সংস্থা ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)।
প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হলে তা একদিকে যেমন বিশ্ব অর্থনীতিকে ব্যাহত করবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
গবেষণাটিতে ১ থেকে ২৫ নম্বর বা রেটিংয়ের স্কেলের মাধ্যমে একেকটি ঝুঁকির তীব্রতা প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়াকে ১২ পয়েন্ট দিয়ে তুলনা করা হয়েছে ব্রিটেনের ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ বা দক্ষিণ চীন সাগরে সশস্ত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির সঙ্গে।
ইআইইউ বলেছে, ‘তিনি (ট্রাম্প) নাফটাসহ সব ধরণের মুক্তবাণিজ্যের প্রতি চরমভাবে আক্রমণাত্মক। তিনি বারবার চীনকে ‘মুদ্রাব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।’ বিশ্ববাণিজ্য, বিশেষ করে মেক্সিকো এবং চীনের প্রতি ট্রাম্পের কর্কশ কথাবার্তা খুব শিগগিরই একটি ‘বাণিজ্য-যুদ্ধে’র সূচনা করতে পারে।
অবশ্য ট্রাম্প যে তার সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট হবেনই, গবেষণা প্রতিবেদনে এমন কোনো আশা করা হয়নি।
চীনের বিশাল অর্থনৈতিক পতন, ইউক্রেন ও সিরিয়া সংঘাতে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ফলে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ- প্রভৃতি ঘটনাকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের জন্য।
এছাড়াও মুসলিমদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি মিলিটারি দৃষ্টিভঙ্গি, জঙ্গি হামলা ঠেকাতে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করা এবং সন্ত্রাস থামাতে সন্ত্রাসীদের পরিবারের সদস্যদের হত্যাসহ বিভিন্ন উদ্ভট ও আপত্তিকর আচরণ যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য দেশগুলোর বিষদৃষ্টিতে ফেলতে পারে এবং আমেরিকা বিদ্বেষী নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠন তৈরি হতে পারে বলে গবেষণাটিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।।
তবে এখন পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজস্ব নীতিধারা সম্পর্কে খুব বেশি কিছু প্রকাশ করেননি। তাই বৈশ্বিক ঝুঁকির ওপর করা এই গবেষণার ফল পরিস্থিতি ও সম্ভাবনা অনুসারে পরে পাল্টাতে পারে বলে জানিয়েছে ইআইইউ।







