বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোহাব্বত খান বলেছেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি মানানোর জন্য জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। তারা আসলে কেনো আন্দোলন করছে সেটাই স্পষ্ট নয়।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাধারণ মানুষ বা কোনো অংশের মতের মিল নাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই না যে জনগণকে তার জন্য কষ্ট দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করছে। এতে রাজধানী জুড়ে প্রকট যানজটের সৃষ্টি হয়। গতদিনও হয়েছে। আজকেও হচ্ছে। এতে মানুষজনের রাস্তা দিয়ে চলাচলে কত অসুবিধা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা ইচ্ছা করে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদেরকে বুঝতে হবে, তারা যে রাস্তাঘাট বন্ধ করে রেখেছে সেখান দিয়ে লোকজন অফিসে যায়, ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে বাবা-মারা স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করে।
‘ঘটনার প্রথমদিন আমিও রাস্তার অবস্থা দেখে বাধ্য হয়ে অফিস থেকে হেঁটে বাসায় ফিরি। আমার না হয় হাঁটতে ভালো লাগে। কিন্তু বাচ্চাগুলোকে নিয়ে মায়েরা যে কতো দূর থেকে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন, তাদের তো খুব কষ্ট হচ্ছিলো।’
এভাবে জনদুর্ভোগ বাড়ানো তাদের উচিত হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন ভারপ্রাপ্ত ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি মনে করেন, জনগণের অসুবিধার কথা না ভাবলে শিক্ষার্থীরা জনগণের সহানুভূতি হারাবে।
তিনি বলেন, যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভ্যাট দিতে পারে, তবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা কোথায়? ‘যদি তারা ভেবে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় বর্ধিত ভ্যাট তাদের বেতন থেকেই আদায় করবে তাহলে সমস্যা কী?’
‘ভ্যাটের জন্য বেতন বাড়ানোর ওপর তো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সরকার বারবার বলছে ভ্যাট দেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীরা নয়। এরপরও আর কী গ্যারান্টি চায় তারা?’
শিক্ষার্থীরা চাইলে মঞ্জুরি কমিশন যে কোনো সময় তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে বলে জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। ‘আমাদের দরজা তাদের জন্য সবসময় খোলা।’
শিক্ষার্থীদের রাজপথ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান ড. মোহাব্বত খান। ভ্যাট বিশ্ববিদ্যালয় দেবে, শিক্ষার্থীদের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না, এ মর্মে যদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য লিখিত বক্তব্য শিক্ষার্থীরা পায়, তবেই এই অস্থিরতা থামতে পারে বলে তার বিশ্বাস।






