যেখানে উচ্চতর শিক্ষায় নিম্নমানের ছড়াছড়ি সেখানে উচ্চমাধ্যমিক-মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে ভুলগুলো অপ্রত্যাশিত নয়। উচ্চ শিক্ষায় ভুলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এমনটাই লিখেছেন প্রবাসী লেখক-গবেষক হেলাল মহিউদ্দিন।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘এক অ্যাকাডেমিক(!) জার্নাল সম্পাদকের মহা অনুরোধ উপরোধে একটি পেপার রিভিউ করলাম। অনেকগুলো শব্দ সংশোধন করে দিলাম। যেমন Now a days কেটে nowadays; grass root কেটে grassroots; Blue Ray কেটে Blu-ray; কেস স্টাডির ন্যারেটিভ অংশে In-Formal education কেটে informal education; all rightকে alright (‘ঠিক আছে’ সম্মতিবাচক অর্থে; ‘সবকিছু ঠিকঠাক’ যাতে না মনে হয়), all togetherকে altogether (‘সার্বিকভাবে’ বা comprehensively বুঝাতে, ‘সবাই একসাথে’ অর্থ যাতে না বুঝায়) ইত্যাদিসহ অনেকগুলো ভুল। লেখাটি ছাপা হবার পর কৌতুহলবশত উল্টাতে গিয়ে দেখি আরো অশুদ্ধ ছাপা। যেমন ‘now a day’, ‘grass roots’, ‘blue ray’, ‘in-formal’ ইত্যাদি। তার উপর all right এবং all together যে রকম ছিল সে রকমই আছে। আর কিছু দেখতে ইচ্ছা হল না।
সম্পাদক সাহেবকে ই-মেইল করে বিনীতভাবে ব্যাখ্যা চাইলাম। উনি জানালেন অপর রিভিউয়ার খুবই সিনিয়র রিটায়ার্ড অধ্যাপক। তিনি শর্ত দিয়েছিলেন প্রথম রিভিউয়ারের পরামর্শ মেনে রচয়িতার লেখা ঠিকঠাক করার পরের ভার্শনটি হলেই শুধুমাত্র তিনি রিভিউ করবেন। আমার পরামর্শ আমলে নিয়ে রচয়িতার করা পরিবর্তনগুলো কেটে দিয়ে তিনি যেভাবে পূণঃ শুদ্ধ করে দিয়েছেন, তা-ই ছাপা হয়েছে।

বুঝলাম আমি ক্ষুদ্র মানুষ—প্রথম রিভিউয়ার। তবু আবার লিখলাম—আমি-আপনি সবাই ভুল করতে করতেই শিখি বলেই peer reviewing ব্যবস্থাটি চালু আছে। এই অধ্যাপক সাহেব ভুল করিয়ে দিচ্ছেন, একজন প্রতিশ্রুতিশীল প্রবন্ধকারকে ভুল জানতে বাধ্য করেছেন (ইংরেজির দূর্বলতা বাদ দিলে প্রবন্ধটি আসলেই ভাল)—তো আপনি-আপনারা সম্পাদক সাহেবরা আছেন কি জন্য? এই ভুল্গুলো অন্তত উনার সংগে আলোচনা করুন। কয়েক সপ্তাহ পরে সম্পাদক সাহেব রাগত ভংগিতে উত্তর দিলেন—আমাদের সম্পাদকমন্ডলীর কেউই বলেনি বা মনেও করেনা দ্বিতীয় রিভিউয়ার ভুল করেছেন। উনার সংগে এ নিয়ে আলোচনায় যাওয়া সম্ভব নয় বলে দুঃখিত। বুঝলাম রিটায়ার্ড অধ্যাপক সাহেব অত্যন্ত ক্ষমতাশালী! ক্ষমতা বলয়ের কেউ কি-না, উনারা ভয়ই পান কি-না কে জানে! এটিও বুঝলাম আর কোনো রিভিউর জন্য উনারা অন্তত আমার মত একজন অজ্ঞ-অশিক্ষিত রিভিউয়ারের দ্বারস্থ হবেন না।
যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই জ্ঞান-চর্চ্চা শুদ্ধতাপন্থায় নয়, সিনিয়রপন্থায় বা ক্ষমতাপন্থায় আত্মাহুতি দিয়ে আছে—সেখানে টেক্সটবুক বোর্ডের ভুলগুলো সামান্যই বলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হতাশ করার মত আরো কত কি যে আছে বলতে গেলে কথায় কথা বাড়বে, কাজের কাজ কিছুই হবেনা।
শিক্ষকরা দূরে থাক এখন আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্ররাও ‘শিক্ষা আন্দোলন’ করেনা। বিশ্ববিদ্যালয় নামের জামার সবচেয়ে উপরের বোতামটি ভুল খোপে পড়েছে বলেই নীচের সবগুলো—উচ্চ মাধ্যমিক, মাধ্যমিক, প্রাথমিকও—ভুল খোপে পড়ে বসেছে’।








