শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। বাড়ির ছাদে প্রিয়দলের পতাকা ওড়ানো। প্রিয়দলের বিজয় দেখার জন্য রাত জেগে থাকার আনন্দটাই অন্যরকম। ফলাফল দেখে তারপর ঘুম।
এসব কিছুর বাইরেও কিছু ঘটনা ঘটে দেশের কোথাও না কোথাও। সবটা আমাদের নজরে আসে না। আসার কথাও না। এই বিশ্বকাপকে ঘিরে কত রকমের ব্যবসার পসরা বসবে। ঈদের পোশাকের সাথে এবার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া পরিচিত দলের জার্সি কেনার ধুম পড়ে গেছে।
পাড়ায় পাড়ায় গ্রুপ তৈরি হয়ে গেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের। তবে যে কথাটির অবতারণার জন্য এ লেখা, সে প্রসঙ্গে আসি। কোনো একটি দলকে অবশ্যই সমর্থন করবো। তার জয়ে চিৎকার দিবো, উল্লাস করবো। প্রয়োজনে নাচবো। মিষ্টি খাওয়াবো বন্ধুদের। কিন্তু যে দলটি হেরে গেল তার সমর্থক কাউকে হেয় করে এমন কোনো কথা বলবো না, যাতে ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগে যায়। আর সেই ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে বড় রকমের দুর্ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও অবাক হবার কিছু নেই। কারণ এখনকার কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ, সবার ভেতরে না থাকলেও অনেকের ভেতরে হিরোইজম কাজ করে। একটু দেখিয়ে দেয়ার ভাব কমবেশি প্রকাশ পায়। সেই দেখিয়ে দেয়া থেকেই ঘটে বিপত্তি।
আমরা এমন কোনো উল্লাস প্রকাশ করবো না, যা অন্য কারো সমস্যা সৃষ্টি করে। আমরা এমন কোনো আচরণ করবো না, যা অন্যের কাছে দম্ভ প্রকাশ মনে হতে পারে। কারণ খেলা হচ্ছে সেই সুদূর রাশিয়ায় আর বাংলাদেশে বসে তা উপভোগ করছি, এটাই বড় পাওয়া। সেই খেলার হারজিতের জন্য আমার কোনো বন্ধুর ওপর রাগ প্রকাশ করবো বা আমার আচরণ দেখে অন্য কোনো বন্ধুর রাগের কারণ ঘটতে পারে, সেটা বর্জন করাই ভালো।
আরেকটি বিষয়, বিষয়টা খুবই মারাত্মক। নেশার মতোই বলা যায়। মাদকের চেয়ে কোনো অংশে কম না। শহর থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছোটোখাটো চায়ের দোকানেও টেলিভিশন থাকে আজকাল। বেশ ভালো কথা, এটা চা-পানকারীদের আকৃষ্ট করা, তাতে ব্যবসাটা একটু ভালো হয়, এটা দোষের কিছু নেই।
কিন্তু খেলার সময়, বাজিকরদের দৌরাত্ম এতটাই চরমে পৌছে যে, অনেকের জুয়ারিদের মতো নিঃস্ব হয়ে যাবার অবস্থা হয়ে যায়। অনেক স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদেরও এর মধ্যে অংশ নিতে দেখা যায়। এর ফলে ক্ষোভ জন্মায়, বিশেষ করে কোন দল জিতবে তা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে যখন বাজি ধরা হয় হাজার হাজার টাকার, আর বাজিতে হেরে কারো কারো ভেতরে প্রতিশোধ নেবার স্পৃহা জাগ্রত হয়। সেই থেকে খুন-খারাবির মতো ঘটনাও ঘটে যায়।
আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ থাকবে তারা যেন এরকম ঘটনা যাতে না ঘটে তাই আগেভাগেই সচেতন হবে। বিশেষ করে বড় বড় দলের খেলার দিনে এ রকম বাজিকরদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শোনা যায়, কোথাও কোথাও লাখ লাখ টাকার বাজিও ধরা হয়।
আমরা এই বিশ্বকাপকে শুধু আনন্দ হিসেবে দেখতে চাই। চাই না কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)








