করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশি দলগুলো বাংলাদেশ সফরে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তাতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা হচ্ছে না সালমা-রুমানাদের। অলস সময় এতটা গড়িয়েছে যে, আর ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই বাংলাদেশ নারী দলের ক্রিকেটারদের।
নভেম্বরে জিম্বাবুয়েতে বসবে ২০২২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। যেটি হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের জুলাইয়ে, শ্রীলঙ্কার মাটিতে। আগামী বছরের মার্চে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে হলে টিকেট চূড়ান্ত করতে হবে রুমানা আহমেদের দলকে।
বাছাইপর্বের সম্ভাব্য তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২৬ ক্রিকেটারকে নিয়ে বিকেএসপিতে ক্যাম্প শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেপ্টেম্বরের শুরুতে নিজেদের মধ্যে হবে টুর্নামেন্ট। বাছাইপর্বে যাওয়ার আগে দেশের মাটিতে প্রস্তুতির বড় অংশ ঘরোয়া আসরটিই।
জাতীয় দল, ইমার্জিং দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে চারটি দল বানিয়ে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনার কথা জানালেন বিসিবি পরিচালক ও উইমেনস উইং প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।
‘আমরা চেষ্টা করছি মেয়েদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে। দুই-তিনটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কথাও বলেছি। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। যেহেতু হাতে সময় খুব বেশি নেই, আমরা ক্যাম্পের পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে যোগ করে চার দলের একটি টুর্নামেন্ট করব বিকেএসপিতে। আর সব খেলোয়াড়ই বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকবে। এমন পরিকল্পনা নিয়ে আমরা আমরা আগাচ্ছি।’
করোনার কারণে সাউথ আফ্রিকা জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরও আটকে গেছে বলে জানান নাদেল। বিসিবি অবশ্য জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজ নিশ্চিত করেছে। টিম টাইগ্রেস জিম্বাবুয়ে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে স্বাগতিকদের সঙ্গে। তারপরই নামবে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মিশনে।
‘যেহেতু এই সময়ে আমরা ঘরোয়া লিগ আয়োজন করতে পারছি না, তাই নিজেদের মধ্যে টুর্নামেন্ট করে প্রস্তুতির সুযোগ করে দিতে হবে। এবারের বাছাইপর্বকে আমরা খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। যে কারণে একমাস আগেই আমরা জিম্বাবুয়েতে জাতীয় দল পাঠাব। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। স্বাগতিকদের সঙ্গে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলব আমরা। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে।’
করোনার প্রভাব পাশ কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সরব হয়ে উঠছে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটও হচ্ছে পুরোদমে। ইংল্যান্ডে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা খেলছে দ্য হানড্রেড। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে বেশিরভাগ দেশ। সেদিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।
২০২০ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে আসার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নামা হয়নি সালমা-জাহানারা-রুমানাদের। দীর্ঘ বিরতি পুষিয়ে নিতে সাউথ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে পুরো জাতীয় দলই বাংলাদেশ খেলিয়েছে ‘ইমার্জিং দল’ এর মোড়কে।
গেল দুই ঈদের মাঝের সময়টা ঘরে কাটিয়েছে রুমানা-সালমারা। লকডাউনের কারণে হয়নি কোনো ক্যাম্প। স্থবির ছিল পুরো কার্যক্রম। যদিও ছেলেদের ক্রিকেটে করোনার প্রভাব অতটা পড়েনি। অনুশীলন ক্যাম্প, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সবই হয়েছে মেয়েদের ঘরে বসিয়ে রেখে।







