শুরুতে বেছে নিয়েছিলেন বাস্কেটবল। পরে ফুটবল। খেতাব পেয়েছেন দেশসেরা গোলরক্ষকের। আছে অম্লমধুর অনেক স্মৃতি। খেলেছেন বিশ্বকাপেও। সেখানেই ঘটেছিল জীবনের দুঃসহ স্মৃতিগুলোর একটি। বিশ্বমঞ্চ মানেই যে সবার কাছে মধুর স্মৃতি নয়, তারই উত্তম উদাহরণ দেখেছিলেন লুইস রিকোর্ডো গুয়েভারা মোরা।
দুঃসহ স্মৃতির সেই ঘটনাটি ১৯৮২’র স্পেন বিশ্বকাপে। আসরে অংশ নেয়া এল সালভাদরের গোলকিপার ছিলেন মোরা। হাঙ্গেরির বিপক্ষে ১০ গোল হজম করে তার দল। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে দুই অংকের গোল খাওয়া একমাত্র গোলকিপার বনে যান তিনি। যার জেরে পরে তাকে গুলির মুখেও পড়তে হয়েছিল।
হাঙ্গেরির কাছে সেই ম্যাচে ১০-১ গোলে হারে এল সালভাদর। সে সময়ের ২০ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক মোরা গ্লাভস হাতে প্রহরী হতে পারেননি। দেশে ফিরে কটুকথা, টিপ্পনী, অতিমাত্রার সমালোচনা, কোনো কিছুতেই ছাড় পাননি। ঘটনার চার-পাঁচ বছর কেটে গেলেও মারমুখী সমর্থকদের পিস্তলের গুলি থেকে রেহাই মেলেনি।
সেই আঘাত থেকে বেঁচে গেছেন বলেই ৩৬ বছর আগের সে দুঃসহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করতে পারছেন বর্তমানে কোচ ৫৬ বছর বয়সী মোরা। ১৯৮২’র পর স্পেন, যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়েতেমালার পেশাদার ফুটবলে খেলেছেন। তবে বিশ্বকাপের মূল আসরে খেলার স্মৃতিই মোরাকে বেশি গর্বিত করে। তেমনি হানা দেয় দুঃসহ স্মৃতিও।
‘যা ঘটেছিল, সেটা আমাদের ইতিহাসের বেদনাতুর দিন।’ -হাঙ্গেরি ম্যাচের দুঃস্মৃতির কথা বর্ণনা করেছেন এভাবেই। মোরা সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘আক্রমণও হয়েছিল। তারা যখন গাড়িতে গুলি করে, আমি ড্রাইভিং করছিলাম। রাইফেলের ২২টি বুলেট ছুটে এসে গর্ত তৈরি করেছিল।’
এল সালভাদরের রাজধানীর কাছাকাছি একটি একাডেমিতে যুব ফুটবলার তৈরির প্রকল্পে মনোযোগ দিয়েছেন মোরা। বর্তমান জীবনটা নিয়ে বেশ সুখী বলেই জানিয়েছেন।







